গুরুগ্রাম, ১১ জুলাইঃ একদিকে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে শ্মশানঘাটের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদবের (Radhika Yadav) মৃতদেহ। অন্যদিকে সামনে এলো তাঁর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট। আর সেই রিপোর্ট সামনে আসতেই গোটা খুনের ঘটনা ৩৬০ ডিগ্রি যেন ঘুরে গেল। এফআইআর এবং অভিযুক্ত দীপক যাদবের স্বীকারোক্তির সঙ্গে মিলছে না ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। যার ফলে রাধিকা যাদব খুনের মামলা আরও জট পাকিয়ে গেল।
আরও পড়ুনঃ সত্যিই কি মেয়ের রোজগারের টাকায় খেতে হচ্ছিল বলে খুন! টেনিস তারকা রাধিকা যাদব খুনের মামলায় নয়া মোড়
পিছন থেকে নয়, সামনে থেকে গুলি করা হয়েছে রাধিকাকে
গুরুগ্রামের যে সরকারি হাসপাতালে রাধিকার ময়নাতদন্ত করা হয়েছে সেই হাসপাতাল বোর্ডের সদস্য সার্জন ডাঃ দীপক মাথুর ইন্ডিয়া টুডেকে টেলিফোনে কথোপকথনে জানান, টেনিস তারকার বুকে চারটি গুলি করা হয়েছিল। তাঁর বুকে সমস্ত গুলির ক্ষত ছিল। চারটি গুলি শরীর থেকে বের করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের এই রিপোর্ট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশের এফআইআর অনুসারে রাধিকা যাদবের বাবা অভিযুক্ত দীপক যাদব গ্রেফতারির পর স্বীকার করেছেন, তিনি পিছন থেকে মেয়েকে গুলি করেছিলেন। মোট পাঁচটি গুলি চালিয়েছিলেন তিনি। দুটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তিনটি লেগেছিল রাধিকার গায়ে। যার অর্থ গুলির ক্ষত শরীরের পিছনে থাকার কথা। কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে, সমস্ত গুলির ক্ষত শরীরের সামনের দিকে ছিল। এই অসঙ্গতিপূর্ণ রিপোর্টই পুলিশের সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাধিকার মৃত্যু নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
১০ জুলাই, বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় স্তরের টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদবকে (২৫) তাঁর নিজের বাবা গুলি করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বাবা জানান, মেয়েরে উপার্জনের টাকায় খাওয়া, মেয়ের টেনিস অ্যাকাডেমি চালানো এবং তাঁর মিউজিক ভিডিওতে কাজ করা - এই সমস্ত কিছু নিয়েই অবসাদে ছিলেম তিনি। আর সেই অবসাদ থেকেই জাতীয় স্তরের টেনিস খেলোয়াড় মেয়ে রাধিকা যাদব খুন করেন তিনি।