West Bengal By Election Result: 'আমি দারুণ খুশি',  করিমপুর, কালিয়াগঞ্জ, খড়গপুরে তৃণমূলের জয় নিয়ে বললেন প্রশান্ত কিশোর
প্রশান্ত কিশোর ও তৃণমূল (Picture Credits: Twitter/ Wikimedia Commons)

কলকাতা, ২৮ নভেম্বর: রাজ্যের তিন কেন্দ্রের উপ নির্বাচতনে জয় পেয়েছে তৃণমূল (TMC)। অনেকেই বলছেন সবই সম্ভব হয়েছে পিকে ম্যাজিকের কারণেই। আজ ছিল করিমপুর (Karimpur), কালিয়াগঞ্জ (Kaliaganj), খড়গপুর (Kharagpur) উপ নির্বাচনের (By Poll) ভোট গণনা। গণনার শুরু হতেই দেখা যায়, ৩ কেন্দ্রেই বিজেপিকে (BJP) টেক্কা দিয়ে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। সময় গত গড়ায়, ব্যবধান তত স্পষ্ট হয়। ৩ কেন্দ্রই জয় নিশ্চিত করে নেয় তৃণমূল। কালিয়াগঞ্জ ও খড়গপুরে এই প্রথমবার জয় পেল তৃণমূল। এর আগে কখনও এই দুই আসনে তৃণমূল জেতেনি। উপ নির্বাচনের এই ফলাফলে দারুণ খুশি নির্বাচন রণনীতি গুরু প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। ২৪ ঘণ্টাকে তিনি বলেন, "এই ফলাফলে আমি দারুণ খুশি।"

২৪ ঘণ্টার খবর অনুযায়ী, লোকসভা ভোটের ফলাফলে কার্যত ভরাডুবির পরই পিকে-র 'শরণাপন্ন' হয় তৃণমূল। একুশের বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে রণনীতি নির্ধারণের জন্য ইলেকশন স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে শাসকদল। এরপরই নিজের টিম নিয়ে জেলায় জেলায় কাজ শুরু করেন পিকে। শুরু হয় 'দিদিকে বলো' কর্মসূচি। হারানো জমি ফিরে পেতে জোর দেওয়া হয় জনসংযোগে। বিধায়কদের কোথায় কখন প্রয়োজন, সেইমতো গাইড করতে থাকে পিকে-র টিম। উপনির্বাচন উপলক্ষে ৩ কেন্দ্রে মাটি আঁকড়ে পড়ে থেকে কাজ করতে থাকে তারা। কালিয়াগঞ্জে ৫ জনের, করিমপুরে ৪ জনের ও খড়গ্পুরে ৭ জনের দল গত একমাস ধরে লাগাতার চষে ফেলে এলাকা। সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধা, অভাব-অভিযোগ সবকিছু নথিভুক্ত করা হয়। আরও পড়ুন: Mamata Banerjee on By Election Result: মানুষের আশীর্বাদে ঘাসফুলের জয় হয়েছে, ফের নিজেকে প্রমাণ করলেন মমতা, কী বললেন মা-মাটি-মানুষের নেত্রী?

তারপর কেন্দ্র ভিত্তিতে তৈরি হয় ইশতেহার। এই প্রথম উপনির্বাচন উপলক্ষে ইশতেহার প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রত্যেকটি কেন্দ্রের জন্য আলাদা আলাদাভাবে ইশতেহার তৈরি করা হয়। খড়গপুরের জন্য তেলেগু ভাষাতেও ইশেতাহার প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস। এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট ডেডলাইন মেনে স্থানীয় মানুষের দাবিদাওয়া পূরণ নিশ্চিত করা হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের যোগাযোগ নিবিড় করতে প্রতি সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিনে এলাকায় বিধায়কদের থাকার কর্মসূচি নেওয়া হয়। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দূর করে একছাতার তলায় সংঘবদ্ধভাবে কাজ করার উপর জোর দেয় পিকে টিম। এমনকি কালিয়াগঞ্জে এনআরসি ইস্যুতেও মানুষকে বোঝায় তাঁরা। সবমিলিয়ে নিঁখুত হোমওয়ার্ক করে একেবারে অল আউ অ্যাটাকে নামে পিকে-তৃণমূল টিম। সেই টিমেরই আজ ছিল প্রথম পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় ফুল মার্কস নিয়ে উত্তীর্ণ পিকে টিম। আর সেই প্রশান্তি-ই ঝড়ে পড়ল প্রশান্ত কিশোরের কথায়।