Nikki Bhati Death (Photo Credit: X)

নয়ডা, ২৬ অগাস্ট: নিকি ভাটিকে (Nikki Bhati) যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার জেরে কেঁপে উঠেছে গোটা দেশ। নিকির বোন কাঞ্চন জানান, তাঁর জামাইবাবুর সঙ্গে অন্য এক মহিলার সম্পর্ক রয়েছে। যা হাতেনাতে ধরে ফেলেন তাঁর দিদি।

রিপোর্টে প্রকাশ, গত বছর নভেম্বর মাসে নিকি ভাটির পরিবার জামাই বিপিন ভাটির (Bipin Bhati) বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। নিকির উপর অত্যাচার. মাধরর করত বিপিন। যা পুলিশকে জানিয়ে এফআইআর দায়ের করা হয় বলে খবর। তারপরও পরিস্থিতি বদলায়নি। নিকির উপর ক্রমাগত অত্যাচার চালিয়ে যেত বিপিন ভাটি। এমনই খবর প্রকাশ্যে আসে নিকির মৃত্যুর পর।

আরও পড়ুন: Niki Bhati Murder: 'মেরে ফেল ওঁকে', নিকি ভাটিকে জ্যান্ত জ্বালানোর আগে ছেলেকে বলতে শুরু করে বিপিনের মা, পণের লোভে নৃশংসতার ভয়াবহ দৃশ্য ভারতে

অগ্নিদগ্ধ গ্রেটার নয়ডার বাসিন্দা নিকি ভাটি 

গত ২১ অগাস্ট গ্রেটার নয়ডার (Greater Noida Dowry Case) বাসিন্দা নিকি ভাটিকে ফর্টিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিকির দেহের অনেকাংশ পুড়ে যায়। সেই অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় ভাটি পরিবার দাবি করে,সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পুড়ে যায় নিকির শরীর। তবে হাসপাতালে ভর্তির পরও শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয় নিকির।

পুলিশ এরপর নিকি ভাটির শ্বশুরবাড়িতে যায়। সেখানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কোনও চিহ্ন যেমন মেলেনি, তেমনি সেখান থেকে এক দাহ্য তরলের বোতল এবং লাইটার খুঁজে পায়।

এরপর নিকির বোন কাঞ্চনের জবানবন্দি রেকর্ড করে পুলিশ। যেখানে কাঞ্চন জানান, তাঁর দিদিকে মেরে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় বিপিন ভাটি  এবং তার মা। এরপর তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশী দেবেন্দ্র নামে এক ব্যক্তি কাঞ্চনকে সঙ্গে নিয়ে নিকিকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

বর্তমানে পুলিশ হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। নিকিকে কে হাসপাতালে নিয়ে যান, সে বিষয়ে খোঁজ শুরু হয়েছে পুলিশের তরফে।

আরও পড়ুন: Niki Bhati Murder: 'মেরে ফেল ওঁকে', নিকি ভাটিকে জ্যান্ত জ্বালানোর আগে ছেলেকে বলতে শুরু করে বিপিনের মা, পণের লোভে নৃশংসতার ভয়াবহ দৃশ্য ভারতে

নিকির উপর বিপিন ভাটির ক্রমাগত অত্যাচার 

২০১৬ সালে নিকির সঙ্গে বিপিন ভাটির বিয়ে হয়। বিয়ের সময় গাড়ি, সোনা, গয়না, প্রভূত নগদ দিয়ে মেয়েকে বিয়ে দেন মৃতের বাবা। বিয়ের ২ বছর কাটতে না কাটতেই নিকির উপর অত্যাচার শুরু হয়। শ্বশুরবাড়িতে জীবন কার্যত দুর্বিসহ হয়ে উঠছিল নিকির। মার্সিডিজ় গাড়ি চাই বলে নিকির উপর চাপ দিত বিপিন। হয় মার্সিডিজ় না হলে নগদ ৬০ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে চলত বিপিন ভাটির অত্যাচার।

এসবের মাঝে নিকি এবং কাঞ্চন, দুই বোন একসঙ্গে বিউটি পার্লার শুরু করেন। সেই সঙ্গে বুটিকের কাজ। যেখান থেকেও টাকা পয়সা হড়প করত বিপিন ভাটি এবং তার ভাই রোহিত ভাটি।

এরপর সেই বিউটি পার্লারের মাঝেই নিকিকে মারধর করে, সিঁড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে, গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় বিপিন ভাটি। যে কাজে তার মা দয়া ভাটি তাকে সাহায্য করে।

এরপর আধপোড়া অবস্থায় নিকি ভাটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পণের জন্য এই অত্যাচারের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়।