দিন দুয়েকের মধ্যেই ওড়িশা, ছত্তিশগড় ও মহারাষ্ট্রের বিদর্ভের কিছু অংশে বর্ষা প্রবেশ করবে, এমনটাই পূর্বাভাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। তবে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার আগমন নিয়ে এখনও কোনও পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, নির্ধারিত সময়ের থেকে অনেক পরে বর্ষা দক্ষিণবঙ্গে আসার নজির সাম্প্রতিক অতীতেও আছে। গতবছর দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা ঢোকে ২১ জুন। দক্ষিণবঙ্গে ২৮ জুনেও বর্ষা প্রবেশের নজির আছে। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা আসার স্বাভাবিক সময় ১০ জুন। এটা দিনসাতেক এদিক-ওদিক হলেও তাকে ‘স্বাভাবিক’ বলে ধরা হয়। আপাতত রাজ্যে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টি চলবে। শুক্রবার দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। এছাড়া শনিবার দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, নদিয়া, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝড় উঠবে।
হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের কোনও কোনও জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা কবে ঢুকবে তা নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে কোনও ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার উপর। আবহাওয়া পূর্বাভাস দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন মডেল আগামী সপ্তাহে উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ-ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে কবে নাগাদ তা হতে পারে সেই ব্যাপারে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। তবে ১৯ জুনের মধ্যে একটি সিস্টেম তৈরি হতে পারে। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এটি শক্তি বৃদ্ধি না করে ঘূর্ণাবর্ত হিসেবে উত্তর অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করবে। জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। এটির প্রভাবে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের কিছু অংশে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরের একটি বা দুটি অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি। আবার জলপাইগুড়ির একটি বা দুটি অংশে ভারী বৃষ্টি হবে। ওই জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।