সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি পিডিএফ (War Lockdown Notice PDF) নথি দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে দেশে ‘ওয়ার লকডাউন’ বা যুদ্ধকালীন লকডাউন জারি করা হয়েছে. এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়. তবে সরকারি সূত্র এবং ফ্যাক্ট চেক রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, এই নোটিশটি সম্পূর্ণ ভুয়ো. ১ এপ্রিল অর্থাৎ ‘এপ্রিল ফুল’ উপলক্ষে কেউ বা কারা মজা করার উদ্দেশ্যে এই বিভ্রান্তিকর তথ্যটি ছড়িয়েছে.

ভাইরাল নোটিশের নেপথ্যে কী রয়েছে?

ভাইরাল হওয়া ওই পিডিএফ ফাইলটিতে অত্যন্ত পেশাদারভাবে সরকারি বিজ্ঞপ্তির আদলে লেখা হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সরকার দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করছে. হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপে এই ফাইলটি শেয়ার করে মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে. কিন্তু নথিপত্রগুলি ভালো করে খতিয়ে দেখলে বোঝা যায় যে এতে কোনও সত্যতা নেই.

পিআইবি ফ্যাক্ট চেকে ধরা পড়ল জালিয়াতি

ভারত সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) এই ভাইরাল খবরের সত্যতা যাচাই করেছে. পিআইবি-র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভারত সরকার এমন কোনও যুদ্ধকালীন লকডাউনের নির্দেশিকা জারি করেনি. সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত এই পিডিএফটি জাল. নাগরিকদের এই ধরণের ভিত্তিহীন খবরে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে.

এপ্রিল ফুল এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্র্যাঙ্ক

প্রতি বছর ১ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে ‘এপ্রিল ফুল ডে’ পালন করা হয়. এই দিনটিতে অনেকেই রসিকতা করার জন্য বিভিন্ন কাল্পনিক খবর ছড়িয়ে দেন. তবে এই বছরের ‘ওয়ার লকডাউন’ সম্পর্কিত রসিকতাটি মানুষের মনে ভীতির সৃষ্টি করেছে. বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তা বা জরুরি অবস্থা সম্পর্কিত কোনও বিষয় নিয়ে এই ধরণের প্র্যাঙ্ক করা কেবল অনৈতিক নয়, বরং আইনিভাবে দণ্ডনীয় অপরাধও হতে পারে.

সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও খবর শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি. বিশেষ করে সেনসিটিভ বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়ার পর সেটি সরকারি ওয়েবসাইট বা স্বীকৃত সংবাদমাধ্যমের পোর্টালে ক্রস-চেক করা উচিত. কোনও প্রকার সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করার এবং যাচাই না করে কোনও পিডিএফ ফরওয়ার্ড না করার পরামর্শ দিচ্ছে সাইবার বিশেষজ্ঞরা