Hatia UNO Viral Video: Government Relieves Md Alauddin of Duties (Photo Credits: X/@ViralPulseXC)

নোয়াখালী: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে তার পদ থেকে সরিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে তার একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।

২৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি গত সোমবার থেকে ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে তাকে ওএসডি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও প্রজ্ঞাপন

সিনিয়র সহকারী সচিব তানভীর হাসান রুমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, মো. আলাউদ্দিনকে পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সাধারণত প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা বিতর্কের মুখে পড়লে সরকারি কর্মকর্তাদের ওএসডি করা হয়, যেখানে তাদের কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয় না।

এই ঘটনার পর থেকে মো. আলাউদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এই বিষয়ে তার ব্যক্তিগত কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভাইরাল ভিডিও এবং ফ্যাক্ট-চেক

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেক জায়গায় এই ভিডিওর "ফুল ভার্সন" বা দীর্ঘ সংস্করণের নামে বিভিন্ন লিংক শেয়ার করা হচ্ছে। তবে সাইবার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এই ধরনের অনেক লিংক আসলে প্রতারণামূলক। স্ক্যামাররা এই বিতর্কের সুযোগ নিয়ে ম্যালওয়্যার বা ফিশিং লিংক ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

পটভূমি ও প্রতিক্রিয়া

হাতিয়ার ইউএনও হিসেবে মো. আলাউদ্দিনের কার্যকাল নিয়ে এর আগেও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা ছিল। তবে এই ধরনের নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণবিধির গুরুত্ব বিবেচনা করেই এই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওএসডি করার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে একটি বিভাগীয় তদন্ত শুরু হতে পারে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।