শহর কলকাতার নির্দিষ্ট কিছু মহলে আবারও 'কলকাতা ফটাফট'-এর বিভিন্ন রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। লটারির মতো দেখতে এই খেলাটি মূলত ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল একটি সংখ্যাতত্ত্বের বাজি। প্রতিদিন আটবার এই খেলার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তবে এই খেলার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আর্থিক এবং আইনি ঝুঁকিগুলি সাধারণ মানুষের জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশাসন বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও, এই অবৈধ কারবার বন্ধ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন এটি একটি অপরাধ?

ভারতবর্ষের অধিকাংশ রাজ্যে 'পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট ১৮৬৭' অনুযায়ী যে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বাজি বা জুয়া খেলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনুমোদিত লটারি ছাড়া অন্য কোনো ধরনের আর্থিক বাজি ধরা সম্পূর্ণ বেআইনি। কলকাতা ফটাফট কোনো সরকারি লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়। এই ধরণের কারবার থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রায়শই বিভিন্ন অসামাজিক কাজে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যার ফলে আইন অনুযায়ী এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

মানসিক ও সামাজিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

এই খেলার সবচেয়ে বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো এর তীব্র আসক্তি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, দ্রুত টাকা পাওয়ার নেশায় মানুষ বারংবার বাজি ধরেন এবং ক্রমাগত হারতে হারতে মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হন। এই আসক্তি থেকে পরিবারে অশান্তি, গার্হস্থ্য হিংসা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এই নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে মানুষ চুরির মতো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছেন।

আর্থিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি

কলকাতা ফটাফটে জেতার সম্ভাবনা গাণিতিকভাবে অত্যন্ত কম। নিম্নবিত্ত ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ তাদের সারাদিনের উপার্জিত অর্থ এই বাজিতে খুইয়ে ফেলেন। এই খেলার কোনো স্বচ্ছতা নেই এবং ডিজিটাল মাধ্যমে চালিত হওয়ার কারণে এখানে জালিয়াতির সুযোগ থাকে প্রচুর। হারানো টাকা পুনরুদ্ধারের আশায় মানুষ চড়া সুদে ঋণ নেন, যা শেষ পর্যন্ত তাদের চিরস্থায়ী ঋণের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে।

কলকাতা পুলিশ এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সাইবার সেলের পক্ষ থেকে নিয়মিত এই ধরণের জুয়ার অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্লক করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সময়ে বহু নকল ওয়েবসাইট 'টিপস' দেওয়ার নামে মানুষের ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, যারা এই ধরণের বাজি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বা এতে অংশ নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে, কোনোভাবেই এই অবৈধ প্রলোভনে পা না দিতে।