জগদ্ধাত্রী পুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম সাংস্কৃতিক প্রতীক। চন্দননগরের আলোর রোশনাই ও কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিমার জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত। মা জগদ্ধাত্রী দেবী দুর্গার অপর একটি রূপ এবং তাকে 'জগতের ধাত্রী', অর্থাৎ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ধারণকর্ত্রী রূপে পূজিত করা হয়।সারা বাংলায় শ্যামাপুজো, ভাইফোঁটার পরই জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়। সাধারণত দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর পরে, কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়।

চন্দননগরে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত চার দিন ধরে পুজো চলে। কৃষ্ণনগর ও অন্যান্য জায়গায় মূলত নবমীর দিনেই প্রধান পুজো সম্পন্ন হয়। এখানে সপ্তমী ও অষ্টমীর কিছু অনুষ্ঠান নবমীর সঙ্গে একসাথে পালন করা হয়।

জগদ্ধাত্রীপুজোর মহাষ্টমী উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই মেতে উঠেছে আলোকনগরী চন্দননগর। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই সকাল থেকে লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন পুজো-মণ্ডপে। কোথাও কোনও ব্যাঘাত যেন না ঘটে, সেদিকেও রাখা হচ্ছে সতর্ক দৃষ্টি।

আজ ২৮ অক্টোবর শেষ রাত ৪/২২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর শেষ রাত ৪/৪২ অবধি থাকবে অষ্টমী তিথি। নবমী শুরু ৩০ অক্টোবর, ২০২৫, বৃহস্পতিবার, সকাল ১০:০৬ মিনিট থেকে। নবমী তিখি শেষ ৩১ অক্টোবর, ২০২৫, শুক্রবার, সকাল ১০:০৫ মিনিট পর্যন্ত।

প্রধান পুজো ৩১ অক্টোবর, ২০২৫, শুক্রবার। অধিকাংশ জায়গায় এই দিনটিকেই জগদ্ধাত্রী পুজো হিসাবে গণ্য করা হয়।

নবমীর শুভ তিথিতে পুষ্পাঞ্জলি বা অন্যান্য পুজো স্থানীয় পঞ্জিকা ও রীতিনীতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। সাধারণত- সকালে পূর্বাহ্ন পুজো, মধ্যাহ্নে মধ্যাহ্ন পুজো, সন্ধ্যাতে আরতি ও প্রসাদ বিতরণ, দশমীতে সকালে দর্পণ বিসর্জন, সন্ধ্যায় প্রতিমা নিরঞ্জন হয়।

২০২৫ সালে জগদ্ধাত্রী পুজো পালনের জন্য ৩১ অক্টোবরকে মূল দিন হিসেবে মনে রাখা হবে, যদিও তিথি শুরু হচ্ছে আগের দিন। পুজোর সময়সূচি ও স্থানীয় নিয়ম অনুসারে অঞ্জলি ও অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে।