ঢাকা: গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউ এন ও) নাম ব্যবহার করে একটি ভিডিওর 'পার্ট ৩' (Part 3) নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই ভিডিওর ডাউনলোড লিঙ্ক দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই তথাকথিত 'পার্ট ৩' ভিডিওর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। মূলত সাধারণ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি পরিকল্পিত ডিজিটাল স্ক্যাম বা প্রতারণা।
ফেসবুক, টেলিগ্রাম এবং এক্স-এর (সাবেক টুইটার) মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে কিছু অসাধু চক্র এই লিঙ্কগুলো শেয়ার করছে। ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করতে চাঞ্চল্যকর শিরোনাম ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আসলে ম্যালওয়্যার বা ফিশিং সাইটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
ভুয়ো ডাউনলোড লিঙ্কের আড়ালে সাইবার ঝুঁকি
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল ভিডিওর 'পার্ট ৩' ডাউনলোড করার জন্য যে লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করতে বলা হচ্ছে, সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপজ্জনক। যখনই কোনো ব্যবহারকারী এই লিঙ্কে ক্লিক করছেন, তখনই তাদের স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার প্রবেশ করার ঝুঁকি থাকছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের লিঙ্কে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস হ্যাক হতে পারে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ডিভাইসে থাকা ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও এবং ব্যাঙ্কিং তথ্যও চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি এক ধরণের 'ক্লিকবেইট' স্ক্যাম যা মানুষের কৌতূহলকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
বিভ্রান্তি এড়াতে কর্তৃপক্ষের পরামর্শ
হাতিয়ার এই ঘটনাটি মূলত একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার বলে মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, কারো ব্যক্তিগত জীবন বা সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা ভিডিও ছড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে কোনো অপরিচিত বা সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে যদি কোনো লিঙ্কে ক্লিক করার পর লগ-ইন আইডি বা পাসওয়ার্ড চাওয়া হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে সেই সাইট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।