Durga Puja 2025. (Photo Credits:X)

Durga Puja 2025: দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীতে এত ভিড় এর আগে কখনও দেখেনি কলকাতা। একে রবিবার, তার ওপর আবার আকাশ পরিষ্কার। এই সুযোগে জনজোয়ার থেকে জনসুনামিতে পরিণত হল শহর কলকাতার রাস্তা। সবার মুখে এক কথা, এত ভিড় আগে কখনও ষষ্ঠীর কলকাতার পুজোয় দেখা যায়নি। দেশপ্রিয় পার্ক থেকে ত্রিধারা সম্মিলনী, টালা প্রত্যয় থেকে লেকটাউনের শ্রীভূমি, ম্যাডাক্স স্কোয়ার, বেহালা বড়িষা, বেহালা ক্লাব থেকে দমদমপার্ক তরুণ সংঘ, হাজরা-বালিগঞ্জ ফাঁড়ি, যাদবপুর থেকে কসবা-খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, শ্যামবাজার, হাতিবাগান, কুমারটুলি, সল্টলেক কলেজ স্ট্রিট, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। সব জায়গায় রেকর্ড ভিড় আছড়ে পড়ল। নিউ আলিপুর সুরুচি সংঘ, চেতলা অগ্রণী-তে হাজারে হাজারে মানুষ দাঁড়িয়ে। বালিগঞ্জের একডালিয়া এভারগ্রিন, সিংহী পার্কে জনসমুদ্রে হারিয়ে যাওয়ার জোাগড়। বালিগঞ্জ কালচারাল, মুদিয়ালির পুজো কভার করতে ভিড়ের চাপে আমাদের প্রতিনিধি খবর পাঠাতে সমস্যায় পড়লেন।

বেহালা থেকে বেলগাছিয়া, টালা থেকে টালিগঞ্জ-সর্বত্র জনসুনামি

কলকাতা পুলিশের এক অভিজ্ঞ কর্মী রাস্তায় কর্তব্যরত অবস্থায় দাঁড়িয়ে জানালেন, এত ভিড় আগেও কোনও ষষ্ঠীতে দেখেছে বলে মনে পড়ছে না। লাইন সামলাতে হিমশিম অবস্থা স্বেচ্ছাসেবকদের। পুজোর বেশিরভাগ হোর্ডিংই এবার ভরে গিয়েছে। এলইডি স্ক্রিনে ঝলমলে কলকাতাকে দারুণ দেখাচ্ছে। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েও একটু বিরক্ত দেখাচ্ছে না ঠাকুর দেখতে আসা মানুষদের। সবাই হাসিমুখে মেনে নিচ্ছে সবটা। এবার কলকাতার পুজোর ভিড়ে একটা বিশেষ প্য়াটার্ন দেখা যাচ্ছে। আগে শহরের হাতেগোণা ১০-১৫টা প্যান্ডেলেই বেশিরভাগ ভিড়টা নজরে আসত। কিন্তু এবার ভিড় সর্বত্র। সুরুচি সংঘের লম্বা লাইনটা কোতায় যেন চেতলা অগ্রণী সংঘে মিশে গিয়েছে। বেহালার ঠাকুর দেখার ভিড়টা খিদিরপুরে রওনা দিয়েছে। হাতিবাগান, কুমারটুলির সঙ্গে বেলগাছিয়া, এমনকী দমদমের ভিড়ও মিশে গিয়েছে। কে বলবে, দিন কয়েক আগে এই শহরেই রেকর্ড বৃষ্টিতে বন্য়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

ভিড় কোথায় সবচেয়ে বেশি

দক্ষিণ কলকাতায় ভিড়ের নিরিখে এগিয়ে ত্রিধারা সম্মিলনী, চেতলা অগ্রণী সংঘ। একডালিয়া এভারগ্রিন বরাবরের মতই ভিড়। উত্তর কলকাতায় ভিড় টানছে টালা প্রত্যয় টালা পার্ক। জগত মুখার্জি পার্ক, কাশীবোস লেনের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। লেকটাউনের শ্রীভূমির লম্বা লাইনের শেষটা কোথায় তা দেখা যাচ্ছে না।

উল্লেখযোগ্য পণ্ডেল ও থিম

চেতলা অগ্রণী: অমৃত কুম্ভের সন্ধানে। সমুদ্র মন্থনের দৃশ্য, ৩ কোটিরও বেশি রুদ্রাক্ষ দিয়ে তৈরি বিশাল শিবলিঙ্গ এবং দেব-দানবের লড়াইয়ের অনুকরণ।

বেহালা ক্লাব: থিম 'মনচাষ'। আড্ডায় মনের উৎকর্ষ বাড়ে। তাই থিমের এমন নাম।

টালা প্রত্যয়: বীজ আঙ্গণ – প্রকৃতি, কৃষি ও স্থায়িত্বের থিম; খাদ্য দূষণ, মুদ্রাস্ফীতি এবং কৃষি নীতির সমস্যা তুলে ধরা।

সুরুচি সংঘ (নিউ আলিপুর): আহুতি – বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা, অনুশীলন সমিতির যোদ্ধাদের বলিদানের কাহিনি।

ত্রিধারা সম্মিলনী (পার্ক সার্কাস): দৃষ্টিকোণ – সামাজিক ইস্যু, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গির মিশ্রণ; অন্ধবিশ্বাস, ঐক্য এবং রঙের ভাষা নিয়ে চিন্তা।

শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব: নিউ জার্সির ব্যাপস স্বামীনারায়ণ অক্ষরধাম মন্দিরবিশাল সাদা মার্বেলের আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য।

কলেজ স্কোয়ার : অঙ্গকরওয়াট মন্দিরের খমের স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক একীকরণ।

চালতাবাগান সর্বজনীন: 'আমি বাংলায় বলছি' ভাষার সংরক্ষণ ও রাজনৈতিক স্মৃতি।

বড়িশা ক্লাব: শূন্য পৃথিবী। সার্কাসের হারানো গৌরব ও জোকারদের জীবন।

দমদম পার্ক তরুণ সংঘ: সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ। সাহিত্যিক রহস্যময় থিম।

সল্টলেক এফডি ব্লক: ঐতিহ্যবাহী সরলতা ও সম্প্রদায়ের উষ্ণতা।