এবার মায়ের হাতে খুন হতে হল ছেলেকে। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কানপুর দেহাতে (Kanpur Dehat)। মৃত যুবক অন্ধ্রপ্রদেশে একটি সংস্থায় কর্মরত ছিল। দিওয়ালির সময় বাড়ি ফেরে। সেই সময়ই বয়ফ্রেন্ড ও তাঁর বন্ধুর সঙ্গে পরিকল্পনা করে যুবককে খুন করে তাঁর মা। খুনকে দুর্ঘটনা প্রমাণ করার জন্য দেহ নির্জন রাস্তার ধারে ফেলে এসেছিল তিনজন। তবে পুলিশি তদন্তে উঠে আসে আসল তথ্য। অবশেষে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয় তিন অভিযুক্তকে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বয়সে ছোট ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল মায়ের
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, বছর ২২-এর যুবকের পারিবারিক সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না। বেশ কয়েকবছর আগেই বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তবে বিচ্ছেদের পর বছর মায়াঙ্ক কাটিয়ার (৩৩) ওরফে ইষু নামে সম্পর্কে ছিল তাঁর মা। আর মায়ের এই কীর্তি দেখে সে তাঁর সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করত না। উল্টোদিকে বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল। ভিনরাজ্য থেকে বাড়ি এলে বাবার সঙ্গেই দেখা করত সে। অন্যদিকে ছোট ছেলেকে নিজের কাছেই রেখেছিল মহিলা। এবারে যখন যুবক বাড়িতে আসে তখন তাঁকে মদ খাইয়ে অচৈতন্য করে গাড়িতে করে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় যুবকের মা, ইষু ও তাঁর বয়ফ্রেন্ড।
ছেলের নামে পলিসি রহস্য
সেখানেই হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর তার দেহ রাস্তার ধারে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। সেই রিপোর্ট সন্দেহজনক আসায় এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজেও কোনও দুর্ঘটনার প্রমাণ না মেলায় সন্দেহ হয় পুলিশের। তদন্তে পুলিশের কাছে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যেখানে জানা যায়, অভিযুক্ত মহিলা ছেলের নামে বছর দুয়েক আগে ৪ লক্ষ, ৬ লক্ষ, ৮ লক্ষ ও ১৫ লক্ষ টাকা এলআইসি করে রেথেছিল। যেখানে নমিনির নাম ছিল মায়ের নাম। এর মধ্যে কয়েকটি পলিসিতে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে দ্বিগুন টাকা পাওয়ার কথা ছিল। পুলিশের দাবি, সেই টাকা হাতানোর জন্যই ছেলের খুন করে মা।