উপত্যকায় ফের সেনা জঙ্গি গুলির লড়াই, গান্ডেরওয়াল সেক্টরে নিকেশ ২ পাক জঙ্গি
জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী(Photo credit-IANS)

শ্রীনগর, ১ অক্টোবর: ফের সেনা জঙ্গি গুলির লড়াইয়ে উত্তপ্ত কাশ্মীর। এখনও পর্যন্ত দু’জন জঙ্গির নিকেশ হওয়ার খবর মিলেছে। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীরের গান্ডেরওয়াল এলাকায়। ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করেছে সেনা, চলছে তল্লাশি। গান্ডেরওয়ালের গুরেজ সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল পাক জঙ্গিরা। সঙ্গে সঙ্গেই তাদের রুখে দেয় ভারতীয় সেনা। শুরু হয় দু পক্ষের গুলির লড়াই। দু’জন জঙ্গি নিকেশ হয়। তৃতীয় ঘটনা ঘটেছে শ্রীনগরে। দুপুরের দিকে জমজমাট এলাকা লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চলে। যদিও সেসময় পথেঘাটে বিশেষ লোকজন না থাকায় প্রাণহানি ঘটেনি। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করে।

গত ২৮ তারিকেই এই গুরেজ সেক্টর দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হচ্ছিল। সেই সময় সেনার গুলির মুখে পড়ে তিন জঙ্গি নিকেশ হয়। খবর ছিল, গুরেজ সেক্টর দিয়ে বড়সড় অনুপ্রবেশের চেষ্টা হবে, সেটাই রুখে দিল ভারতীয় সেনা। পাক সেনার সহায়তায় চলচিল এই অপারেশন। মূলত জঙ্গি অনুপ্রবেশ ফলপ্রসূ করার জন্য নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গোলাগুলি বর্ষণ শুরু করে পাকিস্তান। গত কয়েকদিন ধরেই সেটা চলছিল, যাতে গুলির লড়াইয়ে ভারতীয় সেনা খন ব্যস্ত থাকবে, তখন সুযোগ বুঝে সীমান্ত পেরিয়ে যাবে জঙ্গিরা। তবে লাভ কিছুই হয়নি। বরং তিন জঙ্গি নিকেশ হয়েছে। ওই দিনই রামবান জেলার থর গ্রামে একটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে তিন জঙ্গি। পিঠ বাঁচাতে বাড়ির এক সদস্যকেই তারা বন্দি করে ফেলে। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছায় নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ। সেনা জঙ্গি গুলির লড়াইয়ে এক সেনা শহিদ হয়েছেন। দুই পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হলেও তিনি জঙ্গিকেই চিরতরে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া গিয়েছে। পরে বাড়ির প্রত্যেককেই নিরাপদে উদ্ধার করে সেনা। নিকেশ তিনজনই য়ে হিজবুল মুজাহিদিনের সদস্য ছিল তার প্রমাণ মিলেছে। ঘটনাস্থল থেকে কার্তুজ, গুলি ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আরও পড়ুন-Gujarat Road Accident: গুজরাটে ভয়াবহ পথদুর্ঘটনা, যাত্রীবাহী বাস উল্টে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২১

পুলিশ জানিয়েছে, চেনাব উপত্যকায় জঙ্গি উপদ্রব যাতে জারি থাকে সেকারণেই এখন অনুপ্রবেশ বেড়ে গিয়েছে। মূলত গত ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা (Article 370) বিলুপ্তির পরে পরেই উপত্যকায় জঙ্গি উপদ্রব বেড়ে চলেছে। এদিকে পৃথক কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরেক চিহ্নিত করা হয়েছে। জঙ্গিদের নিয়্ন্ত্রণে রাখতেই গোটা উপত্যকা জুড়ে চলছে কমিউনিকেশন ব্ল্যাকআউট।