দিল্লি, ২০ মে: হরিয়ানা থেকে পাকিস্তানি গুপ্তচর (Pakistani Spy) জ্যোতি মালোহত্রার (Jyoti Malhotra) গ্রেফতারির পর গোটা দেশ (India) জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জ্যোতি মালহোত্রার বাবা হরিশ মালহোত্রা জানান, তিনি তাঁর মেয়ের কাজ সম্পর্কে অবগত নন। জ্যোতি যে পাকিস্তানে যেত, সে কথা তার বাবা হরিশ জানতেন না বলে দাবি করেন। পাশাপাশি জ্যোতির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সম্পর্কেও তার বাবা হরিশ কিছু জানেন না বলে দাবি করেন পাকিস্তানি গুপ্তচরের বাবা (Jyoti Malhotra's Father)।
হরিশ মালহোত্রা জানান, জ্যোতি তাঁকে কখনও বলেনি যে সে পাকিস্তানে যাচ্ছে। 'দিল্লিতে যাচ্ছি' (Delhi) বলে জ্যোতি সব সময় বাড়ি থেকে বের হত। তিনি জ্যোতির পাকিস্তানে যাওয়া সম্পর্কে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেন হরিশ মালহোত্রা।
প্রসঙ্গত ১৬ মে যখন জ্যোতি মালহোত্রাকে গ্রেফতার করা হয়, সেই সময় হরিশ অন্য কথা বলেন। তিনি জানান, ভিডিয়ো শ্যুট করার জন্য জ্যোতি পাকিস্তানে যেত। ওই দাবির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তিনি এবার পালটা দাবি করলেন। বলেন, জ্যোতি যে পাকিস্তানে যেত, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। দিল্লিতে যাচ্ছে বলেই জ্যোতি বাড়ি থেকে বের হত বলে দাবি করেন হরিশ মালোহোত্রা। এসবের পাশাপাশি জ্যোতি বাড়িতে বসেও ভিডিয়ো শ্যুট করত বলে দাবি করেন হরিশ মালহোত্রা নামে হিসারের ওই বাসিন্দা।
জ্যোতি মালহোত্রার ইউটিউব চ্যানেলে ৪৫০টি ভিডিয়ো রয়েছে। তার মধ্যে বেশ কিছু ভিডিয়ো পাকিস্তানের। 'ইন্ডিয়ান গার্ল ইন পাকিস্তান', 'ইন্ডিয়ান গার্ল এক্সপ্লোরিং লাহোর', 'ইন্ডিয়ান গার্ল ইন কাটাস রাজ টেম্পল', নামে একাধিক ভিডিয়ো রয়েছে। যা থেকে প্রমাণিত, জ্যোতি পাকিস্তানে গিয়ে বেশ কিছু ভিডিয়ো শ্যুট করে।
জ্যোতির বাবার দাবি, লকডাউনের আগে পর্যন্ত তাঁর মেয়ে দিল্লিতে চাকরি করত। তবে কোভিডের জেরে লকডাউন শুরু হলে, দিল্লির চাকরি সে ছেড়ে দেয়। এরপর থেকেই দিল্লির ট্রাভেল ভ্লগ শুরু করে বলে জানান হরিশ মালহোত্রা।
পহেলগাম হামলার আগে জ্যোতি মালহোত্রা পাকিস্তানে যায়, কাশ্মীরেও যায়
২২ এপ্রিল পহেলগামের বৈসরণ ভ্যালিতে পাক জঙ্গিরা নারকীয় হামলা চালায়। ওই ঘটনার আগে জ্যোতি পহেলগামে যায়। জ্যোতি মালহোত্রার পহেলগামে যাওয়ার সঙ্গে হামলার কতটা যোগসূত্র, সে বিষয়ে সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয় হিসার পুলিশের তরফে।
পাকিস্তানি ইনটেলিজেন্স অপারেটিভস জ্যোতিকে নিজেদের যখের ধনের মত করে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পাকিস্তানি হাই কমিশনেও যাতায়াত ছিল জ্যোতির। ফলে পাক হাই কমিশনের কোন আধিকারিকের সঙ্গে জ্যোতির যোগ এবং সে কীভাবে ভারতের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের গুপ্তচর হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে পুলিশ জোর কদমে তদন্ত শুরু করেছে। তথ্য খুঁজছেন ভারতীয় গোয়েন্দারাও।