Groom With Wedding Procession Travels On Foot (Photo Credits: ANI)

রামবান, ২১ এপ্রিলঃ একরাতের বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে জম্মু কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) রামবান জেলা। মুষলধারে বৃষ্টির জেরে নেমেছে হড়পা বান। রামবানের ধর্মকুণ্ড গ্রামে হড়পা বান প্রাণ কেড়েছে তিন জনের। ভূমিধস (Ramban Landslide) ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছে সারি সারি গাড়ি। ধসের জেরে রামবান (Ramban) জেলার বহু রাস্তা বন্ধ হয়েছে। ব্যাহত যান চলাচল। স্থানীয় মানুষজনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই এক বর চলেচ্ছেন বিয়ে করতে। ধসে ভেঙে পড়েছে রাস্তা, তাই পায়ে হেঁটে বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়ির পথে এগিয়ে চলেছেন পাত্র।

জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক ভূমিধসের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রাস্তার বেহাল দশা। গাড়ির চাকা গড়ানো সম্ভব নয়। এদিকে বিয়ের তারিখ, লগ্ন আগে থেকেই পাকা। তাই বিপর্যয়ের দিনে বরযাত্রী সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে কনের বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন বর। সোমবার সকাল ৬টায় যাত্রা শুরু করেছে বরযাত্রী। বিয়ে সেরে এইভাবেই পায়ে হেঁটে নতুন বউকে নিয়ে বাড়ি ফিরবেন যুবক।

দুর্যোগের দিনে পায়ে হেঁটে বিয়ে করতে যাচ্ছেন বর, সঙ্গে বরযাত্রীঃ

পাত্র জানাচ্ছেন, 'আজ আমার বিয়ে। গতকালের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমাদের পায়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে। আমরা সকাল ৬টা থেকে যাত্রা শুরু করেছি। আমাদের গাড়ি পিছনে রেখে আসতে হয়েছে। এখনও প্রায় ৭-৮ কিমি হেঁটে যেতে হবে। রাস্তা পরিষ্কার না হওয়ায় আমরা কনেকে একইভাবে নিয়ে ফিরব। সরকারকে ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিষ্কার করার অনুরোধ জানাচ্ছি'।

রবিবার রামবানে (Ramban Cloudburst) আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ২০০-২৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে জাতীয় মহাসড়ক বেশ কয়েকটি জায়গায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রামবানের বহু হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং স্থানীয় দল উদ্ধার অভিযানের জন্যে ঘটনাস্থলে রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের তরফে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা সহায়তা শিবির স্থাপন, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং খাদ্য ও পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা।