১৯০১ সাল থেকে এত গরম ফেব্রুয়ারি দেখেননি বিশেষজ্ঞরা। ১২২ বছরের ইতিহাসে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস ছিল উষ্ণতম। শুধু উষ্ণতম ফেব্রুয়ারিই নয়, এ বছর আরও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর।
ভারতের আবহাওয়া দফতর আইএমডি অনুসারে, এবারের ফেব্রুয়ারিতে ১৯০১ সালের পর সারা দেশে তাপমাত্রার মাসিক গড় ছিল সর্বোচ্চ। মার্চ মাসে উপকূলবর্তী অঞ্চল ছাড়া বেশিরভাগ অংশেরই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকবে।মোট কথা গরমে গরমে কাটতে চলেছে ২০২৩-এর গ্রীষ্মকাল।
২০২০ সালের মধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি রাজ্যে তাপপ্রবাহ ২০১৫ সাল থেকে তাপপ্রবাহ বেড়েই চলেছে ভারতে। একটা একটা করে তাপপ্রবাহের শিকার হওয়া রাজ্যের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ২০২০ সালের মধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গিয়েছে তাপপ্রবাহ ঘটে চলা রাজ্যের সংখ্যা। দেশে তাপপ্রবাহ হানা দেয় বর্তমানে ২৩টি রাজ্যে। গ্রীষ্মের স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার থেকে বেশি হবে এবারের তাপমাত্রা।
ভারতের আবহাওয়া দফতরের একজন সিনিয়র বিজ্ঞানী এসসি ভান জানিয়েছেন, ৩১ মে শেষ হওয়া আগামী তিন মাসে দেশের বেশিরভাগ অংশে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা প্রবল। তাপপ্রবাহের মাত্রা বাড়বে উত্তরোত্তর। আগামী মাসগুলিতে দেশ গরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হবে।
গত বছরের তীব্র তাপপ্রবাহের থেকেও এবার আরও বেশি উষ্ণ থাকবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে আবহাওয়া দফতররে পক্ষ থেকে। তাপপ্রবাহের পুনরাবৃত্তিতে ফসলের ফলন তীব্র ক্ষতির মুখে পড়বে। খরার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। আরও জানানো হয়েছে দেশের বিদ্যুৎ পরিষেবায় এবার চাপ পড়বে।গত বছর ভারত শতাব্দীর উষ্ণতম মার্চ কাটিয়েছিল গ্রীষ্মকালের শুরু না হতে হতেই যে পূর্বাভাস এসেছে, তাতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কৃষি দফতর, বিদ্যুৎ দফতরও। কৃষি ও বিদ্যুৎমন্ত্রকে আগে থেকে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। গত বছর ভারত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবথেকে উষ্ণ মার্চের শিকার হয়েছিল। ফলে শস্য নষ্ট হয়েছিল বহুল পরিমাণে, সরকার রফতানি করতে পারেনি ফসল।
আশঙ্কা করা হয়েছে, এবারের তাপপ্রবাহ ভারতের গম উৎপাদনকে টানা দ্বিতীয় বছরের জন্য কমিয়ে দিতে পারে। ফলে খাদ্য খরচ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে আবহাওয়া। চিনের পরেই ভারত দ্বিতীয় বৃহত্তম খাদ্য উৎপাদক দেশ। কিন্তু বিশ্ব বাজারে রফতানি করতে ব্যর্থ হতে পারে ভারত।
ভারত জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভারত জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে অগ্রগণ্য। ভারতের এই চরম আবহাওয়া, তাপপ্রবাহ, প্রবল বন্যা এবং তীব্র খরা প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। কৃষি উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করছে। জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে।