Gurugram: বাড়ি থেকে পালিয়ে দুই মহিলা বন্ধুর বিয়ে

গুরুগ্রাম, ১৩ জুন: একেবারে গলায় গলায় বন্ধুত্ব দু'জনের। দুজনের বন্ধুত্ব (Friendship) সেই স্কুল জীবন থেকে। হরিয়ানার গুরুগ্রাম (Gurugram) আর ঝাঝার (Jhajjar) জেলার দুই মেয়ের বন্ধুত্ব থেকে বিবাহটা, নজির হয়ে থাকল। পরিবার, সমাজের সব আপত্তি উড়িয়ে গুরুগ্রামের সোহনার কাছে এক মন্দিরে ওরা দু'জন বিয়ে করল। একজনের বয়স ২০- বাড়ি গুরুগ্রামে, অপরজনের বাড়ি ঝাঝার-এ, তাঁর বয়স ১৯। স্কুল জীবন থেকেই ওরা একে অপরের প্রিয় বন্ধু। দুজনে ঝাঝোরের স্কুলে পড়ত। স্কুল বেঞ্চে পাশাপাশি বসা থেকে শুরু। এরপর বয়স যত বেড়েছে ওরা দু দুজনের কাছে এসেছে। দুজনের বন্ধুত্বটা সাত বছরের। ওদের সম্পর্কটা নিয়ে অনেক কটাক্ষ হয়েছে, বিরোধিতা এসেছে। কিন্তু ওদের ভালবাসায় তাতে কিছু যায় আসেনি। আরও পড়ুন: COVID-19: যোগী রাজ্যে করোনা মাতার মন্দির ভাঙল প্রশাসন

দুজনেই বাড়ির লোককে জানিয়েছিল, ওদের একে অপরকে ছাড়া বাঁচা সম্ভব নয়। দুই পরিবার থেকেই ওদের সম্পর্কটা নিয়ে বাধা আসে। ওদের বাড়ির লোকেরা বোঝায়, এই সমাজে এটা সম্ভব নয়। ওরা যেন দুজনে দুজনকে ভুলে যায়। মেয়েদের বিয়ে শুধু ছেলেদের সঙ্গেই হয়। সমাজ কিছুতেই তোমাদের দুই মেয়ের মধ্যে বিয়ে মনে নেবে না। এরপর ওরা দুজনেই ঠিক করে, বাড়িতে যত নিষেধ আসুক, সমাজে যতই বাধা আসুক ওরা বিয়ে করবে। এরপরই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে প্রথমে মন্দিরে পুরোহিত ডেকে এনে এই দুই মেয়ে বন্ধু একে অপরকে গলায় মালা পরিয়ে হিন্দু শাস্ত্র মতে বিয়ে করে। মন্দিরে বিয়ের সময় গুরুগ্রামের মেয়েটিকে পাত্রী ও ঝাঝরের মেয়েটিকে পাত্র হিসেবে ধরে মন্ত্র পরেন পুরোহিত। তারপর আদালতে গিয়ে বিয়ের রেজিস্ট্রিও করে।

গুঁরগাওয়ের মেয়েটি দিন দশেক আগে গুরুগ্রামের মেয়েটি নিখোঁজ হয়ে যায়। পুলিশের কাছে মেয়ের হারিয়ে যাওয়ার মিসিং ডায়েরি করেছিলেন তাঁর বাবা। পরে ঝাঝারের বন্ধুর বাড়ির কাছে পুলিশকে দুজনকে একসঙ্গে দেখে। গুরুগ্রামের মেয়েটি পুলিশকে জানায়, সে তাঁর মহিলা বন্ধুকে বিয়ে করে ফেলেছে। এরপর তাদের পরিবারের লোকেরা এই বিয়ের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানালেও, আদালত থেকেই তাদের বিয়ের মান্যতা দেওয়া হয়।