বিয়ের পর সমস্ত মহিলারই ইচ্ছে থাকে যে স্বামী তাঁর অন্তত একটা শখ পূরণ করবে। অনেকের সেই শখ বা বায়না পূরণ করতে লেগে যায় কয়েকটা দিন বা মাস, আবার কিছু মানুষের লেগে যায় ১৫ বছর। হ্যাঁ, আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষেরই আর্থিক সামর্থ আকাশছোঁয়া থাকে না, কিছু মানুষ এখনও মাটিতে থেকেই পরিশ্রম দুবেলা দুমুঠো খাবারের জোগাড় করে। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর যখন কোনও ইচ্ছেপূরণ হয়, তখন চোখ থেকে বেরোয় আনন্দের জল। এমনই এক ঘটনা ঘটল মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) ছত্রপতি সাম্ভাজিনগর এলাকায়। ৯৩ বছরের এক বৃদ্ধ ১৫ বছর আগে তাঁর স্ত্রীয়ের করা একটি শখ পূরণ করলেন ২০২৫-এ।
সোনার দোকানে বৃদ্ধ দম্পতি
বছর ১৫ আগে নিবৃত্তি শিন্ডেকে তাঁর স্ত্রী বলেছিলেন একটা সোনার মঙ্গলসূত্র গড়িয়ে দিতে। আর্থিক অবস্থা সচ্ছল না থাকায় সেই সময় তা বানিয়ে দিতে পারেননি। ভিক্ষে করে দীর্ঘদিন ধরে ছত্রপতি সাম্ভাজিনগর এলাকায় দিন কাটাতো এই দম্পতি। আচমকাই একদিন ভিক্ষে করে জমানো ১১০০ টাকা নিয়ে হাজির হন একটি সোনার দোকানে। ছিল থুচরো কয়েন এবং কয়েকটি নোট। দিনদুনিয়ায় কতকিছু পরিবর্তন হয়েছে, সেই সম্পর্কে নিবৃত্তির কোনও ধারনা ছিল না। লাঠি হাতে বৌকে নিয়ে গেলেন সোনার দোকানে। সেখানে যেতেই ধারনা হল আসল দুনিয়ার। সোনার দাম যে হারে বেড়েছে সেখানে ১১০০ টাকার স্ত্রীয়ের জন্য সোনার কিচ্ছু হবে না, বুঝতে পারলেন নিবৃত্তি।
মানবিকতার খাতিরে মঙ্গলসূত্র দম্পতিকে দিলেন দোকানের মালিক
অতঃপর মুখ নীচু করে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন বৃদ্ধ দম্পতি। সেই সময় দোকানের মালিক এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। জানান জীবনের শেষ সম্বল দিয়ে বৌ-এর জন্য মঙ্গলসূত্র কিনতে এসেছিলেন। কিন্তু দাম দেখে তিনি ফিরে যাচ্ছেন। তখন দোকানের মালিক তাঁদের হাতে তুলে দেন একটি সোনার মঙ্গলসূত্র। যদিও তাঁরা যে টাকা এনেছিল, তা সবকিছুই দিয়ে দিচ্ছিল দোকানে। কিন্তু মালিক তা ফিরিয়ে দেন। তারপরেও জোড় করে বৃদ্ধ ২০ টাকা দেন ওই ব্যক্তিকে। আর এই ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হল সোশ্যাল মিডিয়ায়।