Representational Image (Photo Credits: File Image)

দিল্লি, ২৩ জুলাই: ফের স্ত্রীর (Wife) হাতে খুন স্বামী (Husband)। শুধু তাই নয়, খুনের পদ্ধতি বা কেমন করে খুন করতে হবে, এমন সব প্রশ্ন  মোবাইলে (Mobile) সার্চ করে তবেই বছর ২৯-এর ওই মহিলা নিজের স্বামীকে খুন করে। খুনের পর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ওই মহিলা। স্বামীকে খুনের পর ঘটনাটি যখন সামনে আসে গত রবিবার, তা দেখে পুলিশ কার্যত অবাক হয়ে যায়।

রিপোর্টে প্রকাশ, দিল্লির (Delhi) নিহাল বিহারে গত রবিবার এই ঘটনা ঘটে। নিহাল বিহারের বাসিন্দা ফারজ়ানা খান দাবি করে, সে তার স্বামী মহম্মদ শাহিদ ওরফে ইরফানকে খুন করেছে। ইরফানের  সঙ্গে সম্পর্কে সে একেবারেই তুষ্ট ছিল না। সেই কারণে স্বামী ইরফানকে সে খুন করেছে বলে দাবি করেন ফারজ়ানা।

এসেবর পাশাপাশি ইরফান তাঁকে যৌনতায় (Sexually Unsatisfied) অর্থাৎ শারীরিক সম্পর্কে কোনওভাবে তুষ্ট করতে পারত না। যার জন্য ফারজ়ানা ক্রমশ বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিল বলে পুলিশকে জানায়। সেই সঙ্গে সব সময় অনলাইন গেমিংয়ে ডুবে থাকত ইরফান। অনলাইন গেম, জুয়া মেতে থাকা ইরফানের সঙ্গে থাকতে তার ভাল লাগছিল না। ফলে ইরফানের তুতো ভাইয়ের সঙ্গে ফারজ়ানা নামের ওই মহিলা সম্পর্কে জড়ায়। দ্বিতীয় ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েই ফারজ়ানা তার স্বামী ইরফানকে খুন করেছে বলে পুলিশের কাছে দাবি করে।

রবিবার এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় দিল্লির সঞ্জয় গান্ধী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পারে। ইরফানকে তাঁর ভাই হাসপাতালে নিয়ে যায় মৃৃত অবস্থায়। স্বামী আত্মহত্যা করেছে বলে ওই সময় ফারজ়ানা দাবি করে। জুয়ায় হেরে প্রচুর টাকা পয়সা হারিয়েই ইরফান আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশকে জানায় ফারজ়ানা। তবে ইরফানের শরীরে পরপর ৩টি ক্ষত ছিল। যা দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। তবে জুয়ায় হেরে ইরফান নিজেকে আহত করেছে বলে জানায় ফারজ়ানা। তবে সোমবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে ফারজ়ানার দাবি মিথ্যে প্রমাণিত হয়। ময়নাতদন্তে স্পষ্ট জানানো হয়, ইরফান নামের ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: Divorce And Alimony Case: বিয়ের ১৮ মাসের মাথায় ডিভোর্সের মামলা, আকাশছোঁয়া খোরপোষে BMW, ফ্ল্যাট এবং ১২ কোটির দাবি তথ্য প্রযুক্তি কর্মীর

এরপরই পুলিশের সন্দেহ হয় ফারজ়ানার উপর। ফারজ়ানার মোবাইল ঘেটে পুলিশ জানতে পারে, খুনের পদ্ধতি ইন্টারনেটে সার্চ করে ওই মহিলা। তবে সব হিস্ট্রি ফারজ়ানা ডিলিট করে দেয়। সার্চ হিস্ট্রি ডিলিট করলেও, পুলিশের হাতে সব তথ্য হাজির হয়। এরপরই ফারজ়ানাকে আটক করে পুলিশ জেরা শুরু করে। জেরায় ভেঙে পড়ে ফারজ়ানা এবং খুনের কথা স্বীকার করে।

উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে বাড়ি ইরফান এবং ফারজ়ানার। বেরিলি থেকে দিল্লিতে হাজির হয়ে তারা বসবাস শুরু করে। আর সেখানেই ঘটে যায় ভয়াবহ কাণ্ড।