Soumitra Chatterjee Health Update: একই রকম সৌমিত্র, স্নায়ুর সমস্যা সমাধানে বসছে মেডিক্যাল বোর্ড
সৌমিত্র চ্যাটার্জি (Photo Credits: Facebook)

কলকাতা, ৫ নভেম্বর: আগের দিন রক্তক্ষরণ বন্ধ হওয়ায় ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছিল বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের (Soumitra Chatterjee) শারীরিক পরিস্থিতি। তবে ফের নতুন উপসর্গ শুরু হয়েছে। তাঁর কিডনি ঠিকমতো কাজ করছে না। এ দিন ডায়ালিসিস হয়নি তাঁর। সৌমিত্রর রক্তের বিভিন্ন মাত্রা ওঠানামা করছে। যা সঙ্কটজনক। রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা, হিমোগ্লোবিন, প্লেটলেট ফের কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাল্টিপল ট্রান্সফিউশন করেছেন চিকিৎসকরা। একইসঙ্গে রক্তের বিভিন্ন মাত্রা ঠিক রাখতে নতুন করে নানা ওষুধও প্রয়োগ করা হয়েছে। শরীরে বেড়েছে সেকেন্ডারি ইনফেকশন। তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। সৌমিত্রর কিডনির কার্যক্ষমতা বাড়াতেই আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসতে চলেছেন নেফ্রলজি বিশেষজ্ঞরা।

এই মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে নেফ্রলজি বিশেষজ্ঞরা মতামত দেবেন। আজ বৃহস্পতিবার, দেখতে দেখতে ১৬ দিন হল অভিনেতার মস্তিষ্কের স্নায়ু সাড়া দিচ্ছে না। মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে,মস্তিষ্কের সচেতনতার মাত্রা (গ্লাসগো কোমা স্কেলের সূচক) ১০-এর কাছাকাছি। মাসাধিক কাল  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তবে গতকালকের মতোই রয়েছে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি, তেমন কোনও উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। তাঁর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা আর নতুন করে কমেনি। এমনকী, রবিবার যে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছিল তা তেমনই আছে। নতুন করে আর কোনও রকম রক্তক্ষরণ হয়নি। গ্লুকো কোমামিটারে সচেতনতার মাত্রা ১০-এর আশপাশে অর্থাৎ বাড়েওনি কমেওনি। প্লেটলেট স্বাভাবিক রয়েছে। শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিকঠাক কাজ করছে। সৌমিত্রবাবুকে সুস্থ করতে যা যা থেরাপির প্রয়োজন রয়েছে তার সবটাই চলছে। তাই অভিনেতা সৌমিত্রবাবুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে যেন কোনও রকম গুজব না রটে তা জানিয়েছেন ডাক্তার অরিন্দম কর। আরও পড়ুন-Arnab Goswami: আলিবাগ কোর্টের নির্দেশে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে অর্ণব গোস্বামী

তবে রবিবার ফেলুদার শারীরিক অবস্থা যে সংকট জনক ছিল তার থেকে এখন অনেকটাই ভালো পরিস্থিতি। শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ চিকিৎসকদের চিন্তায় রাখছিল। রবিবারও তা নিয়ন্ত্রণে না আসার ফলে অশীতিপর অভিনেতার হিমোগ্লোবিন এক ধাক্কায় অনেকটা নেমে গিয়েছিল। সিটি অ্যাঞ্জিওগ্রাফিতে রক্তক্ষরণের উৎসস্থল চিহ্নিত করে সেখান থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করা হলেও পুরোপুরি সফল হতে পারেননি চিকিৎসকরা। সিটি অ্যাঞ্জিওতে ব্যবহৃত ডাই শরীর থেকে বের করে দিতে রবিবারও ডায়ালিসিসও করা হয় সৌমিত্রকে।