Earthquake 2025: ভূমিকম্পে হত ৮ হাজারের বেশি! রাশিয়া থেকে মায়নামার- ২০২৫ সালে ধ্বংসাত্মক সব কম্পন

২০২৫ সালটা শেষ হতে আর মাত্র মাস দুয়েক বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে বলা যায় চলতি বছরটা ভয়াবহ সব ভূমিকম্পের জন্য ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে কোথাও ঘরবাড়ি ধুলিসাৎ, কোথাও আবার হাজার হাজার মানুষের জীবন নিভে গেছে মুহূর্তে।

Earthquake 2025: ভূমিকম্পে হত ৮ হাজারের বেশি! রাশিয়া থেকে মায়নামার- ২০২৫ সালে ধ্বংসাত্মক সব কম্পন
মায়ানমারে ভূমিকম্প (ছবিঃANI)

Earthquake 2025: ২০২৫ সালটা শেষ হতে আর মাত্র মাস দুয়েক বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে বলা যায় চলতি বছরটা ভয়াবহ সব ভূমিকম্পের জন্য ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে কোথাও ঘরবাড়ি ধুলিসাৎ, কোথাও আবার হাজার হাজার মানুষের জীবন নিভে গেছে মুহূর্তে। চলতি বছর এখনও পর্যন্ত গোটা দুনিয়ায় ভূমিকম্পের কারণে আট হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। দেশের সীমানা পেরিয়ে এই ভয়াবহতা যেন একই ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে, ভূমিকম্পের তাণ্ডব। রাশিয়ার কামচাটকার ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটা দুনিয়ার ইতিহাসে চতুর্থ ভয়াবহতম হিসাবে রেকর্ড করা হয়েছে। মায়ানমারের ৭.৭ মাত্রার তীব্র ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সোয়ান আইল্যান্ডে ৭.৬ মাত্রার, ফিলিপিন্সে ৭.৪ মাত্রার, চিনে ৭.৩ মাত্রার, তিব্বতে ৭.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে বড় ক্ষতি হয়।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ২০২৫ সালের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলি

১) রাশিয়া (কামচাটকা): ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প

গত ৩০ জুলাই কামচাটকা উপদ্বীপের পশ্চিম তীরে এই অতি-তীব্র ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, যা ১৯৫২ সালের পর রাশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিশ্বের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ মাত্রার। সুনামির আশঙ্কায় জাপান ও হাওয়াইয়ে সতর্কতা জারি হয়, কয়েকজন জখম হয় এবং কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিন্তু মৃত্যুর কোনো খবর ছিল না। আফটারশকসমূহ এখনও চলছে।

২) ফিলিপিন্স: ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

গত ১০ অক্টোবর মিন্ডানাও দ্বীপের দাভাও ওরিয়েন্টালের মানাই কাছে সমুদ্রে এই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, যা দ্বিতীয় ৬.৯ মাত্রার কম্পনের সাথে ল্যান্ডস্লাইড ঘটায়। অন্তত ১০ জন মৃত, তিনজন জখম এবং উপকূলীয় এলাকায় সুনামির আশঙ্কায় ঘরছাড়া হন; বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং তেল সুবিধা অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়।

৩) আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র (সোয়ান আইল্যান্ড): ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ক্যারিবীয় সাগরের সোয়ান দ্বীপের কাছে এই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, যা উত্তর আমেরিকান এবং ক্যারিবীয় প্লেটের সীমান্তে ট্রান্সফর্ম ফল্টে আঘাত করে। জনজীবনে বিস্তর আতঙ্ক ছড়ায় কিন্তু কোনো মৃত্যু বা বড় ক্ষতির খবর নেই। এটি প্লেট সীমান্তের ভূ-ঝুঁকির পাঠ শেখায়।

৪) তিব্বত: ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প

গত ৭ জানুয়ারি শিগাতসে প্রদেশের টিংরি কাউন্টিতে এই ভূমিকম্প আঘাত করে, যা তিব্বতের উচ্চভূমিতে ১০ কিলোমিটার গভীরতায় সংঘটিত হয়। মৃত্যু ১২৬ থেকে ৪০০ জনের মধ্যে, আহত ৩৩৮ জন, এবং ৩,৬১২টি ঘর ধসে পড়ায় পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বিস্তৃত ধ্বংসলীলা দেখা যায়; উদ্ধারকাজে ১৪,০০০ কর্মী নামানো হয়।

৫) চিলি: ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

গত ২ মে ম্যাগালেনেস অঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলে দক্ষিণ আটলান্টিক সমুদ্রে এই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, যা উশুয়াইয়া পর্যন্ত অনুভূত হয়। কোনো মৃত্যু বা গুরুতর ক্ষতির রিপোর্ট নেই, কিন্তু সমুদ্রতীরে সুনামির সতর্কতায় উদ্বেগ বাড়ে এবং জলক্রিয়া স্থগিত হয়; কিছু এলাকায় হালকা কম্পন অনুভূত হয়।

৬) জাপান: ৬.৮ মাত্রার কম্পন

অক্টোবরে মিয়াজাকির কাছে এই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, যা জাপানের সুনামি-প্রবণ অঞ্চলে আঘাত করে। সুনামি সতর্কতা জারি হয় কিন্তু কোনো মৃত্যু বা গুরুতর ক্ষতির খবর নেই; হালকা কম্পন অনুভূত হয় এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়, যা দেশের সিসমিক প্রস্তুতির পরীক্ষা নেয়।

৭) আফগানিস্তান: ৬ মাত্রার ভূমিকম্প

গত ৩১ আগস্ট কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলায় এই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, যা পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ৮ কিলোমিটার গভীরতায় আঘাত করে। প্রায় ৩ হাজার মৃত্যু, ৪ হাজার আহত এবং ৮ হাজার ঘর ধ্বংস হয়, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সর্বোচ্চ মৃত্যুদায়ক ভূমিকম্প। ভূমিধ্বস এবং আফটারশকসমূহ উদ্ধারকাজকে বড় সমস্যায় ফেলে

৮) ইন্দোনেশিয়া: ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

গত ২৮ অক্টোবর বান্ডা সাগরে টুয়ালের কাছে এই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, যা ১৪৪ কিলোমিটার গভীরতায় আঘাত করে। ঘরবাড়ি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিন্তু কোনো মৃত্যু বা আহতের রিপোর্ট নেই; হালকা কম্পন টুয়াল ও আম্বোন পর্যন্ত অনুভূত হয়, যা স্থানীয় অবকাঠামোর দুর্বলতা তুলে ধরে।

৯) তুরস্ক: ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প

গত ২৩ এপ্রিল মার্মারা সাগরে ইস্তাম্বুলের কাছে এই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, যা ১০ কিলোমিটার গভীরতায় আঘাত করে এবং ২০২৩-এর ভূমিকম্পের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। ১ জন হার্ট অ্যাটাকের মুখে মারা যান, ৩৫৯ জন আহত এবং মাঝারি ক্ষতি হয় মার্মারা অঞ্চলে; স্কুল বন্ধ এবং শেল্টার স্থাপিত হয়।

১০) ইকুয়েডর: ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প

গত ২৫ এপ্রিল এসমেরালদাসের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে এই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, যা ২৩ কিলোমিটার গভীরতায় আঘাত করে। অন্তত ৪৯ জন আহত, ৮০০-এর বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত এবং তেল সুবিধা অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়; কোনো মৃত্যু রিপোর্ট না হলেও ১৩৫ পরিবার প্রভাবিত হয় এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ঘটে।

১১) মেক্সিকো: ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প

গত ১২ জানুয়ারি দক্ষিণ-পশ্চিম মেক্সিকোর একটি অঞ্চলে এই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, যা অ্যাকুয়িলার কাছে ১৩ মাইল দূরে কেন্দ্রীভূত। কোনো গুরুতর ক্ষতি বা মৃত্যুর রিপোর্ট নেই, কিন্তু বহু বাড়ি-রাস্তা হালকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৩২৯টি আফটারশক অনুভূত হয়। মেক্সিকোর সিসমিক ইতিহাসে এটি সাধারণ ঘটনা।

(The above story first appeared on LatestLY on Jan 01, 1970 05:30 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).