Bangladesh General Election 2026: শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশছাড়ার বছর ঘুরতে চলল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ছিলেন শেখ হাসিনা। আর ক দিন পরেই সেই ঘটনার বর্ষপূর্তি। গত এক বছরে নানা নাটকীয় উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে পদ্মাপাড়ের দেশ। হাসিনা দেশ ছাড়ার পর বাংলাদেশকে নিয়ে বেশিরভাগই খারাপ খবর হয়েছে। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর মহম্মদ ইউনুসের সরকার অনেক চেষ্টা করেও বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা আনতে পারেননি। দেশে বেকারত্ব বৃদ্ধি থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সংখ্য়ালঘুদের ওপর অত্যাচার, বেশ কিছু জায়গায় প্রশাসনের অনুপস্থিতি চোখে পড়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ইউনুসের প্রশাসনের সিস্টেম বদলানোর সুচেষ্টা করেছেন। কিন্তু দিনের শেষ বলতে হবে হাসিনাহীন বাংলাদেশ গত এক বছরে অন্ধকারেই চলে গিয়েছে। এবার আলোয় ফেরার লড়াইয়ে গোট দেশ তাকিয়ে নির্বাচনের দিকে। গণতান্ত্রিক দেশ তত্ত্বাবধায়েক সরকাররা সফল হন না, দীর্ঘদিন চলতে পারে না, এটা সব জায়গাতেই সত্যি। তাই বাংলাদেশের আম জনতা চাতক পাখির মত অপেক্ষায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকারের।
আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কিছু জরুরি দিক--
১) বাংলাদেশে কবে নির্বাচন হতে পারে
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে খালিদা জিয়ার দল সহ কয়েকটি রাজনৈতিক পার্টি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভোটে আগ্রহী। তবে যদিও ভোটার তালিকা তৈরির কাজ সহ প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং রমজান-ঈদের সময়সূচীর কারণে আগামী বছর এপ্রিলকেই ভোটের বিষয়ে বেশি সম্ভাবনাময় মনে করা হচ্ছে।
২) ভোটার তালিকা সংশোধনী:
এখন বাংলাদেশে ভোটার তালিকা সংশোধনী ও প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। ২৩টি জেলার ৭৫টি উপজেলাকে দুর্গম এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন ভোটারদের নিবন্ধনের জন্য অনলাইন ফর্ম পূরণ এবং বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলছে।
৩) প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট:
নির্বাচন কমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রক্রিয়া "নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮" অনুসরণ করবে।
৪) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীরা
বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী পদের এগিয়ে রয়েছে। ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের জেল হয়। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি তাঁকে মুক্তি দেন। এবং চলতি বছরের গোড়ায় ২০০৮ সালের দুর্নীতি মামলায় তিনি মুক্তি পান, যা তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য করে। তবে ৭৯ বছরের খালিদার শরীর ভাল নয়। সেক্ষেত্রে তাঁর ছেলে তথা বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে ভালভাবেই আছেন ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখ নাহিদ ইসলাম। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নাহিদ ইসলাম ছাড়াও এনসিপি নেতা আখতার হোসেন বা আসিফ মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রী পদে বিবেচিত হতে পারেন। তবে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনও কোনো নির্দিষ্ট প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করেনি।
৫) নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-
২০২৫ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহাল করা হয়েছে। খারিজ হতে চলেছে শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগের স্বীকৃতি।
৬) ভোটে অংশগ্রহণকারী দলগুলি:
নির্বাচন কমিশনে ১৪৭টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে, যা ২২ জুন ২০২৫ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এবং নতুন ছাত্রপন্থী দল (এনসিপি) নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৭) জনমত সমীক্ষা:
বাংলাদেশে বিভিন্ন সংস্থা নির্বাচনের আগে জনমত সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে বিশ্বস্ত সংস্থাগুলির সমীক্ষাগুলির গড় হিসেব বলছে, বিএনপি ৩৮ %, জামায়াতে ইসলামী ২১%, এবং এনসিপি ১৫.০২% ভোট পেতে পারে। আরেকটি সংস্থার সমীক্ষায় এনসিপি ৫৭%, জামাতে ইসলামী ২৩%, বিএনপি ১৩%, এবং আওয়ামী লীগ ৩% ভোট পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে এই সমীক্ষাগুলি কতটা নিরপেক্ষ তা যাচাই করা কঠিন।
৮) আওয়ামী লিগের অবস্থান:
শেখ হাসিনার দেশছাড়া এবং আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণের প্রস্তাবের পর আওয়ামী লিগের জনপ্রিয়তা ভিত্তি কমেছে। সেটা নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে নির্বাচনে নিষিদ্ধ না হলে আওয়ামী লিগ এখনও বলার মত ভোট পেতে পারে বলে অনেকের মত।
৯) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪-র ফলাফল:
মোট আসন-৩৫০টি আসন। আওয়ামী লিগ (শেখ হাসিনা): ২২৪টি। জাতীয় পার্টি (এরশাদ)-১১টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৬২টি, জাসদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টি একটি করে আসন জিতেছিল।
১০) ভোটের হার ও বিতর্ক:
গতবার বাংলাদেশে ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৪০%, তবে কারচুপি, জাল ভোট, এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল। বিএনপি ও তাদের সহযোগী দলগুলি ভোট বয়কট করে হরতাল পালন করেছিল।
১১) সংসদ বিলুপ্তি:
শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার ঠিক পরেই ৬ আগস্ট ২০২৪-এ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করেন। যা ২০২৬-এর নির্বাচনের পথ চওড়া করেছিল।
১২) রাজনৈতিক ঐক্য:
বিএনপি ও অন্যান্য দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চাইলেও সময়সূচী নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে।