Abhijit Banerjee Met Chief Minister Mamata Banerjee: মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ ব্যানার্জি
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অভিজিৎ ব্যানার্জি (Photo: ANI)

কলকাতা, ২৮ জানুয়ারি: নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জির (Nobel laureate Abhijit Banerjee) হাতে সাম্মানিক ডি লিট (D Litt ) তুলে দিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Calcutta)। ধুতি ও পাঞ্জাবি পরে বাঙালি হিসেবেই তিনি ডি লিট গ্রহণ করেন। নোবেল পদ গ্রহণ করার দিনেই তিনি ধুতি ও পাঞ্জাবি পরেছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির (Chief Minister Mamata Banerjee) সঙ্গে দেখা করেন অভিজিৎবাবু। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মাও। তিনজনকে হাসিমুখে ছবি দিতে দেখা যায়।

আজ নজরুল মঞ্চে আয়োজন করা হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীপ ধনখর আসতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। আনন্দবাজারের খবর অনুযায়ী, প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পড়ুয়াদের একাংশ। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) এবং জাতীয় জনসংখ্যা রেজিস্টার (এনপিআর)-এর বিরোধিতায় তাঁরা ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। পড়ুয়াদের হাতে ছিল সিএএ-এনআরসি-এনপিআর বিরোধী কালো পতাকা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন। গাড়িতে তখন কার্যত অবরুদ্ধ রাজ্যপাল। এই ভাবে কিছু ক্ষণ বসে থাকার পর রাজ্যপালকে কোনও রকমে নজরুল মঞ্চের ভিতরে ঢোকানো হয়। কিন্তু, পড়ুয়াদের বিক্ষোভ তত ক্ষণে পৌঁছে গিয়েছে মঞ্চের একেবারে সামনে। গোটা নজরুল মঞ্চ তত ক্ষণে ভরে গিয়েছে। সামনের সারিতে অনেক বিশিষ্ট জনেরা বসে। নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জিও পৌঁছে গিয়েছেন সমাবর্তনস্থানে। পড়ুয়াদের মুখে তখনও স্লোগান, ‘গো ব্যাক ধনখর’, ‘ওয়েলকাম অভিজিৎ’। আরও পড়ুন: Calcutta University Convocation 2020: নজরুল মঞ্চ ছাড়লেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখর, আচার্যকে ছাড়াই শুরু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী ব্যানার্জি (Sonali Chakravarti Banerjee) বারবারে বিক্ষোভরত ছাত্রদের অনুরোধ জানান শান্ত হওয়ার। রাজ্পাল মঞ্চে আসবেন না বলেও জানান তিনি। যদিও তাতে প্রথমে বিক্ষোভের মাত্রা কমেনি। উপাচার্য বলেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ ব্যানার্জিকে ডিলিট দিতে হবে। তোমরা শান্ত হও। ওনার কথা শোনো। তোমরা শান্ত না হলে আমি আমার বক্তব্য রাখতে পারব না। অভিজিৎবাবু বক্তব্য রাখতে পারব না। আমাকে কাজ তো করতে দিতে হবে।" পরিস্থিতি শান্ত না হওয়াতে পড়ুয়াদের দাবি কার্যত মেনে নেন উপাচার্য। ফলে, পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। শুরু হয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান, অ্যাকাডেমিক শোভাযাত্রা। সেখানে রাজ্যপালকে দেখা যায়নি। এই শোভাযাত্রা যখন চলছে, তখন নজরুল মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় আচার্য জগদীপ ধনখরকে। উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় পরে মঞ্চ থেকে বলেন, ‘‘অপ্রীতিকর এই পরিস্থিতির জন্য দুঃখিত।’’

মূল মঞ্চে না উঠলেও ভিতরের একটি ঘরে উপাচার্যের পাশাপাশি অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জির সঙ্গেও বেশ কিছু ক্ষণ কথা হয় আচার্য-রাজ্যপালের। নজরুল মঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার আগে আচার্য জগদীপ ধনখড় বলেন, ‘‘অশান্তি চাই না। অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জিকে নিজের হাতে ডি লিট দিতে পারলাম না। আক্ষেপ থাকবে। ওঁর ডি লিটের মানপত্রে আমি সই করেছি।’’