কসবায় গণধর্ষণ কাণ্ডে (Kashba Gang Rape Case) নির্যাতিতা তরুণী আসলেন আলিপুর আদালতে। শনিবার তরুণীর সঙ্গে এসেছিলেন তাঁর বাবা-মাও। এদিনই কলকাতার পুলিশের তরফ এই ঘটনার তদন্তের জন্য ৫ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এসিপি প্রদীপ কুমার ঘোষাল। তদন্তভার নেওয়ার পরেই কলেজের এক নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ঘটনার দিন তাঁরও ভূমিকা ছিল। কলেজের মেন গেটে তালা দেওয়া, গার্ড রুম অভিযুক্ত তিন যুবকের হাতে ছেড়ে দেওয়া, সর্বোপরি ধর্ষকদের একপ্রকার সাহায্য করেছিল সে। তাই শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এদিন নির্যাতিতা আলিপুর আদালতে গোটা ঘটনার গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করান।

প্যানিক অ্যাটাক করলে ইনহেলা কিনে দেয়

জানা যাচ্ছে, থানায় অভিযোগপত্রে গোটা ঘটনার বিস্তারিত বিবৃতি দিয়েছেন নির্যাতিতা। সেখানেই তিনি বলেন, প্রথমে ইউনিয়ন রুমে নির্যাতন করা হয়। তারপর গার্ড রুমে নিয়ে এসে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এমনকী ঘটনার মাঝে তরুণীর প্যানিক অ্যাটাক হয়, তখন সে হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য কাকুতি মিনতি করেন। কিন্তু তাঁরা রাজি না হওয়ায় ইনহেলা দিতে বলেন। তখন অভিযুক্তদের মধ্যে একদন ওষুধের দোকানে গিয়ে ইনহেলা কিনে তরুণীকে দেয়। সেটি নেওয়ার পর সুস্থ হলে তাঁর ওপর আবার চলে শারীরিক নির্যাতন।

মনোজিতের প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল তরুণী

এই ঘটনায় মনোজিত মিশ্রই এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত। আর তাঁকে সঙ্গ দিয়েছে প্রমিত মুখোপাধ্যায় এবং জায়েদ আহমেদ। আসলে মনোজিৎ প্রথম বর্ষের ওই তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নির্যাতিতা তা ফিরিয়ে দেয়। যা আত্মসম্মানে লাগে মনোজিতের। এমনিতেই সে কলেজের প্রভাবশালী একজন। তার ওপর তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা ও কলেজের প্রাক্তনী। সেই কারণেই রাগের মাথায় এই ঘটনাটি ঘটায়।