আহিরীটোলায় (Ahiritola) ট্রলি ব্যাগের মধ্যে থেকে উদ্ধার মহিলার দেহাংশ ঘিরে ক্রমেই রহস্য ঘণীভূত হচ্ছে। বুধবার এই মামলার মূল অভিযুক্ত ফাল্গুনী ঘোষ ও তাঁর মা আরতিকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। সেখানেই তাঁকে একদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনাটি যেহেতু মধ্যমগ্রামের (Madhyamgram) একটি বাড়িতে ঘটেছে। সেখানেই ফাল্গুনী তাঁর পিসিশাশুড়িকে খুন করে দেহ খণ্ড খণ্ড করে ট্রলিতে ভরা হয়েছিল, ফলে এই ঘটনার তদন্ত মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশই করবে এবং আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতেই দুই অভিযুক্তকে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে কলকাতা পুলিশের হাতে থাকা সমস্ত তথ্য মধ্যমগ্রাম থানাকে তুলে দিতে বলা হয়েছে।

প্রমাণ জোগাড় করতে মধ্যমগ্রামের ভাড়া বাড়িতে তদন্তকারীরা

এদিকে বুধবারই মধ্যমগ্রামে গিয়েছিল নর্থ পোর্ট থানার ফরেন্সিক আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল অর্থাৎ ফাল্গুনীরা যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি রক্তমাখা ইট। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ওই ইট দিয়েই সুমিতার মাথা থেঁতলানো হয়েছিল। যদিও যে বটি দিয়ে দেহাংশ কাটা হয়েছিল, তা এখনও উদ্ধার করা হয়নি। পুলিশে সন্দেহ, ওই এলাকায় একটি পুকুর রয়েছে, সেখানেই বটিটা ফেলে দেওয়া হয়েছে।

সুমিতার সম্পত্তি হাতানোর মতলব ছিল ফাল্গুনীর

প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, সুমিতা যেহেতু নিঃসন্তান, সেহেতু তাঁর লকারে থাকা ৭০ ভরি গয়না, সম্পত্তি ও ব্যাঙ্কে থাকা ৩ লক্ষ টাকা হাতানোই ফাল্গুনী ও তাঁর মায়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল। এদিকে সুমিতার সঙ্গে তাঁর স্বামীর প্রায় ৫ বছর কোনও সম্পর্কই ছিল না। এমনকী তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল। সে অসমের জোরহাটের বাসিন্দা। নথি অনুযায়ী ফাল্গুনীও সেখানকারই বাসিন্দা। তবে মাসদুয়েক হল মধ্যমগ্রামে ভাড়া উঠেছেন। সেখানেই ডাকা হয়েছিল সুমিতাকে।