কলকাতা, ১০ এপ্রিল: বিচ্ছেদ হতেই প্রতিশোধ স্পৃহায় জ্বলতে শুরু করল যুবক। প্রেমিকার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তাঁর বাড়ির ঠিকানায় একের পর এক পার্সেল পাঠানো শুরু হয়। সব পার্সেলেই কোনও না কোনও জিনিস থাকত। তবে সেগুলি এমনি এমনি নয়, ক্যাশ অন ডেলিভারি অপশনে ক্লিক করে তবেই প্রাক্তন প্রেমিকার বাড়িতে অনলাইনে কেনাকাটার জিনিসপত্র সংশ্লিষ্ট যুবক পাঠাতে শুরু করে। পরপর ৩০০টি পার্সেল ওই যুবক প্রাক্তনের বাড়িতে পাঠায় ক্যাশ অন ডেলিভারি অপশনে ক্লিক করে। যে ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পুলিশও (Kolkata Police) কার্যত তাজ্জব হয়ে যায়।
গত ৭ মার্চ লেক টাউন পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন এক তরুণী। ব্যাঙ্কে কর্মরত ওই তরুণী জানান, নদীয়ার (Nadia) সুমন শিকদার নামে এক যুবকের (Jilted Lover) সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। সুমনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙতেই একের পর এক ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। হেনস্থা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনলাইন কেনাকাটা, সবকিছুর মধ্যে দিয়েই যাতে ওই তরুণীকে বিরক্ত করা যায়, তার প্রাণপন চেষ্টা চালায় সুমন। বিচ্ছেদের পর গত বছর নভেম্বর মাস থেকে ওই ঘটনার সূত্রপাত।
প্রথম প্রথম ওই তরুণী কিছু বলেননি বা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেননি। জ্বালাতন সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ওই তরুণী গত ৭ মার্চ লেক টাউন থানার দ্বারস্থ হন এবং পুলিশকে গোটা ঘটনার কথা খুলে বলেন। এরপরই পুলিশ পদক্ষেপ করে। সেই সঙ্গে ওই তরুণী বিভিন্ন ই-কমার্স সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। যার জেরে ই কমার্স সংস্থাগুলির তরফে সংশ্লিষ্ট তরুণীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নদীয়ার বাসিন্দা সুমন শিকদারকে পুলিশ গ্রেফতার করে। সম্প্রতি তাকে সল্টলেক আদালতে তোলা হলে, সেখানে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।
প্রসঙ্গত সুমন শিকদারের দাবি, ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীন তাঁকে অনেক উপহার কিনতে হত। ওই তরুণী অনলাইনে কেনাকাটা করতে পছন্দ করতেন। ফলে বিচ্ছেদের পর সুমন কার্যত প্রতিশোধ নিতেই ৩০০ উপহার ক্যাশ অন ডেলিভারি করে ওই তরুণীর বাড়ির ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়।