Calcutta High Court: সন্ধ্যা নামতেই উধাও আনন্দ, হাইকোর্টে খারিজ ভাটপাড়া পুরসভার অনাস্থা ভোট
অর্জুন সিং(File pic)

কলকাতা, ২ জানুয়ারি: বছরের একেবারে শুরু অর্জুন সিংয়ের মতো প্রতিপক্ষকে জব্দ করে বেশ খুশিতে মজে ছিল ভাটপাড়ার তৃণমূল কংগ্রেস। তবে সন্ধে নামতেই খুশি উধাও। এদিন ১৯জন বিধায়ককে নিয়ে ভাটপাড়া পুরসভার (Bhatpara Municipality) দখল নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। তখন অর্জুন সিং বলেছিলেন, এই আস্থা ভোট বেআইনি। তিনি আদালতে যাবেন। সন্ধ্যাতেই বেশ কিছুক্ষণ সওয়াল-জবাবের পর হাইকোর্টের বিচারপতি অরিন্দম সিনহা বলেন, গত ডিসেম্বর ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়, তা বেআইনি। তা খারিজ করা হচ্ছে। এরপর রাজ্যের পুর আইন অনুযায়ী সমস্ত প্রক্রিয়া এগোবে। ভাটপাড়া পুরসভায় অনাস্থা ভোট-সহ গোটা প্রক্রিয়া খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। এক লহমায় শাসক শিবিরের আনন্দ বদলে গেল দুঃখে।

কয়েকদিন আগেই নৈহাটি উৎসবে এসে তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি নাম না করেই বলেছিলেন, শুধু ভাঙতে পারে গড়তে জানে না। ঠিক তার পরেপরেই ভাটপাড়া পুরসভা ফের তৃণমূলের দখলে চলে এল। বছরের একেবারে শুরুতে নিজের গড়ে এতবড় ধাক্কা খেয়ে বেশ বিপাকে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। তাঁর কথায়, বেআইনিভাবে আস্থা ভোটে জিতে পুরসভার দখল নিয়েছে তৃণমূল। এনিয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, “আগামী ২০ জানুয়ারি চেয়ারম্যান সৌরভ সিং আস্থা ভোটের জন্য বৈঠক ডেকেছেন। তার আগে এই ধরনের বৈঠক পুর আইন অনুযায়ী বেআইনি।” আরও পড়ুন-TMC Wins Bhatpara Municipality: নিজের গড়েই জোর ধাক্কা, অর্জুন সিংকে হারিয়ে ভাটপাড়া পুরসভার পুনর্দখল তৃণমূলের

এমনিতে লোকসভা ভোটের পরে ভাটপাড়া পুরসভা দখলে নিতে বিশেষ পরিশ্রম করতে হয়নি বিজেপিকে। অর্জুন সিং-এর দাপটে জোড়াফুল বদলে রাতারাতি পদ্মফুল হয়ে গিয়েছিল। লোকসভা ভোটে দাঁড়ানোর সময়ে নিজে চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে সেই চেয়ারে বসিয়ে এসেছিলেন ভাইপো সৌরভ সিংকে। কিন্তু হালিশহর, কাঁচরাপাড়া, গারুলিয়া, বনগাঁর মতো অর্জুন-দুর্গের ভাটপাড়া পুরসভাও হাতে রাখতে পারল না বিজেপি। বৃহস্পতিবার ভাটপাড়া পুরসভার আস্থা ভোটে বিজেপির কোনও কাউন্সিলর যাননি। অন্যদিকে বোর্ড দখলের ম্যাজিক ফিগারের থেকে বেশি সংখ্যক তৃণমূল কাউন্সিলর এক্সিকিউটিভ অফিসারের ডাকা বৈঠকে উপস্থিত হন। ১৯-০ ব্যবধানে জিতে যায় ঘাসফুল শিবির। তবে সন্ধে নামতেই আনন্দের রেশ বিষাদে ভরল।