Baghbazar Fire Updates: বাগবাজারের ভয়াবহ আগুন কাড়ল ৭০০ বাসিন্দার আশ্রয়, ক্ষতিগ্রস্ত বিবেকানন্দের উদ্বোধনী পত্রিকার অফিস
বাগবাজারে বস্তিতে বিধ্বংসী আগুন (Photo: Twitter)

কলকাতা, ১৪ জানুয়ারি: নতুন বছরের শুরুতে আগুন যেন কলকাতার পিছু ছাড়ছে না। বুধবারের সন্ধ্যায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে বাগাবাজারের (Baghbazar) হাজার হাত বস্তি। প্রায় ৭০০ বাসিন্দা এখন গৃহহীন। আগুনের গ্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত বিবেকানন্দের তৈরি ১২২বছরের উদ্বোধনী পত্রিকার অফিস। বাগবাজারে সারদা মায়ের বাড়িও আগুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হারিয়ে গিয়েছে মূল্যবান নথি। পুড়ে ছাই নগদ টাকা। ধ্বংসস্তূপ থেকে শেষ সম্বল উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পৌষের শীতে ঘর হারানো মানুষগুলি। এদিন ভোরেও ঘটনাস্থলের বিভিন্ন জায়গা থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখা যায়। তার মধ্যেই ঝুপড়িবাসীরা খুঁজতে শুরু করেন আগুনের গ্রাস থেকে মূল্যবান কিছু বেঁচে আছে কি না। কেউ খুঁজছেন পরীক্ষার শংসাপত্র। কেউ বা আধার কার্ড, ভোটার কার্ড।

গতকাল সন্ধ্যায় প্রাম বাঁচাতে সবকিছু আগুনে গ্রাসে ফেলে রেখে এক কাপড়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছিল। তবে আশা মিটল না। ছাইয়ের গাদায় শুধুই অন্ধকার। কোনও নথিই আস্ত নেই। তায় ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাশ্রয় বস্তিবাসীদের সরিয়ে এলাকা ফাঁকা করতে চেষ্টা করলে সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। এদিকে আগুনের খবর পেয়ে বুধবার রাতেই গঙ্গাসাগর থেকে বাগবাজারের ঘটনাস্থলে চলে আসেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেছেন নিরাশ্রয় বস্তিবাসীদের জন্য চারটি কমিউনিটি হল ও বাগবাজার উওমেনস কলেজে থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। আগুন লাগার কারণএখনও জানা যায়নি। আরও পড়ুন-GST On Notice Period: চুক্তিমতো নোটিস পিরিয়ড সার্ভ করেননি? কর্মীকে দিতে হবে ১৮ শতাংশ GST

এদিকে আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ কয়েরজন দমকল কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। বাগবাজারের মায়ের বাড়িতে আগুন পৌঁচে যাওয়ায় দমকলের পাশাপাশি গতকাল আগুন নেভাতে হাত লাগান রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ ও স্থানীয়রা। এই প্রসঙ্গে মহারাজ অভিন্নানন্দ বলেন, উদ্বোধনী পত্রিকার অফিসের দুই ও এক তলায় থাকা বইয়ের কাউন্টার, পত্রিকার অফিস, বইয়ের গুদাম পুড়ে গিয়েছে। তিন তলায় প্রকাশনার অফিস ছিল। সেটিও কী অবস্থায় রয়েছে বোঝা যাচ্ছে না। তবে বইয়ের গ্রন্থাগার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত। এই আগুনের জেরে ১২২ বছরের পুরোনো বই আজও অক্ষত আছে কি না তানিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ওই বাড়ির চারতলায় ১৫ জন সন্ন্যাসীর সঙ্গে ১৫ জন কর্মীও থাকেন। সময় মতো তাঁদের উদ্ধার করা গিয়েছে।

মূলত উত্তুরে হাওয়া ও কাছাকাছি গঙ্গা থাকায় বৃহস্পতিবার রাতে আগুন হু হু করে গোটা বস্তিটাকে গ্রাস করে নেয়। একের পর সিলিন্ডার ফেটে আগুন যেন আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ালে নামানো হয় ব়্যাফ। আগুনের কারণে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ থেকে গিরিশপার্ক পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বুধবারের সন্ধ্যা উত্তর কলকাতায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।