হ্যাকার হামলা, হোয়াটসঅ্যাপ থেকে চুরি গেল ইউজারদের গোপন তথ্য
হোয়াটসঅ্যাপ লোগো(Photo Credit: Wikimedia Commons)

এখনও ফেসবুকের ফাঁড়া কাটেনি, তার আগেই বিপদের মুখে জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ( Whatsapp )। হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেটিংসে বড়সড় ত্রুটি ধরা পড়েছে। আর সেই সুযোগ নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের উপর হামলা চালিয়েছে হ্যাকাররা। মনে করা হচ্ছে, বেছে বেছে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু ঠিক কাদের কাদের অ্যাকাউন্টে হ্যাকাররা হানা দিয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। ফলে দেড়শো কোটি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যাবহারকারীর প্রত্যেকেই নিজের তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হল, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গোটা স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের অন্যান্য ডেটাতেও নজরদারি চালাচ্ছে হ্যাকাররা( hacking )।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমস বলছে(The Financial Times) , এই আক্রমণটি ইজরায়েলের সাইবার সংস্থা( Israeli company) এনএসও গ্রুপের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, এ ধরনের হামলা যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে হয়েছে, সেটা এ মাসের শুরুতেই হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ প্রথম বুঝতে পেরেছিল। যদিও, তাঁরা নিশ্চিত নয়, ঠিক কত সংখ্যক ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাছাড়া কারা কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটাও নিশ্চিত নয়। ইতিমধ্যেই নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে হোয়াটসঅ্যাপ। গ্রাহকদের তারা অ্যাপটি আপডেট করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

হোয়াটসঅ্যাপ নিজেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই ত্রুটির কথা স্বীকার করে নিয়েছে। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির তরফে জানানো হয়েছে, অ্যাপটিতে হ্যাকাররা দূরবর্তী অবস্থান থেকেও মেসেজে বা কল ফাংশনের মাধ্যমে নজরদারি সফটওয়্যার অনুপ্রবেশ করাতে পারে। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে ইতিমধ্যে আক্রমণও চালিয়েছে হ্যাকাররা। গত ১০ মে অ্যাপটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তদারকি করতে গিয়ে এই হ্যাকার হামলার বিষয়টি নজরে আসে কর্তৃপক্ষের ফেসবুকের মালিকানাধীন সোশ্যাল মেসেজিং সাইট হোয়াটসঅ্যাপে এই আক্রমণগুলি করা হয়েছে খুব পরিকল্পিতভাবে। আগে থেকে কিছু নির্বাচিত নম্বর নির্দিষ্ট করে নিয়েছে। তারপরই স্পেশ্যাল অ্যাক্টরের মাধ্যমে চালানো হয় হামলা।

বলাবাহুল্য মাসখানেক আগেই ফেসবুক থেকে চরি যাচ্ছিল ইউজারদের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলের ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড। বিষয়টি আগেভাগেই ফেসবুকের কর্মীদের নজরে আসে। তবে সংস্থার দাবি, কর্মীরা কোনওরকম অনৈতিক কাজ করেননি, বরং গ্রাহকদের তথ্য গোপন রাখার কাজ করেছেন সর্বতোভাবে।