Suryakumar Yadav Skips Handshake With Pakistan Captain Salman Ali Agha. (Photo Credits:X)

India vs Pakistan Asia Cup 2025 Final: এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ৪১ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান। আট বছর পর কোনও টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারত-পাক দ্বৈরথ। ২০১৭ সালের ১৭ জুন আইসিসি চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে লন্ডনের ওভালে টিম ইন্ডিয়াকে ১৮০ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান। এবার আজ, রবিবার দুবাইয়ে এশিয়া কাপ টি-২০ ফাইনালে মুখোমুখি ওয়াঘা সীমান্তের দুই দেশ। একটা সময় জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও, সাম্প্রতিককালে ভারত ও পাকিস্তান ক্রিকেটে একপেশে জয় পায় টিম ইন্ডিয়া। টি-২০ ক্রিকেটে টিম ইন্ডিয়া যেখানে বিশ্ব চ্য়াম্পিয়ন, বেশ ঈর্ষণীয় রেকর্ড। সেখানে পাকিস্তান এখন শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের পাশাপাশি ছোট দেশগুলির কাছেও হেরে যায়।

চলতি এশিয়া গত দুটি রবিরাই পাকিস্তানকে একেবারে ধরাশায়ী করেন সূর্যকুমার যাদবরা। তার মধ্য়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রুপ লিগের ম্য়াচে পাকিস্তানকে মাত্র ১২৭ রান আটকে রেখে, সেই রানটা মাত্র ১৫.৫ ওভারে তুলে নেয় টিম ইন্ডিয়া। তবে গত রবিবার সুপার ফোরের ম্যাচে সলমন আঘার দল কিছুটা প্রতিরোধ করে, যদিও তাতে সূর্যকুমার যাদবদের ম্যাচ জিততে তেমন অসুবিধা হয়নি। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের এই দলটার খেলা দেখে কখনই মনে হয়নি তারা টিম ইন্ডিয়াকে হারাতে পারে। আজ, রবিবার ফাইনালেও কি তেমন একপেশে ম্যাচ হতে পারে? আমাদের মনে হচ্ছে, আজ দুবাইয়ের ফাইনাল জমে যেতে পারে। পিছনে যে পাঁচ কারণ--

১) ফাইনালের মেগাম্যাচের স্নায়ুর চাপ-

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই স্নায়ুর লড়াই। আবার সেই মহারণ যদি ফাইনালে হয় তাহলে তো কোনও কথাই নেই। স্নায়ুর লড়াইয়ের যে কোনও ম্যাচে অতীতের হিসাবে তেমন কাজে আসে না। ফাইনাল মানেই আলাদা উত্তেজনা। লিগ বা সুপার ফোরে যে দলই যতটা দাপট দেখাক, ফাইনালের দিনে সব হিসেব বদলে যেতে পারে। চাপ সামলাতে না পারলে ম্যাচ বেরিয়ে যেতে সময় লাগবে না।

২) খাদের কিনার থেকে ঘুরে দাঁড়ানো পাকিস্তান সব সময় বিপজ্জনক-

ইমরান খান থেকে ইনজামাম উল হক, শাহিদ আফ্রিদি কিংবা বাবর আজম- পাকিস্তান ক্রিকেটে নানা অধিনায়কের সময়ে একটা কথা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তান যদি একবার ঘুরে দাঁড়ায়, তারা ঠিক কতটা ভয়ঙ্কর। ১৯৯২ অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডে আয়োজিত বিশ্বকাপে শুরুতেই বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল ইমরান খানের দল। কিন্তু কোনওরকমে সেই ম্য়াচ জেতার পর যেভাবে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ইমরানরা তা এককথায় অবিশ্বাস্য়। ২০০৯ টি-২০ বিশ্বকাপে ইউনিস খান- শাহিদ আফ্রিদিদের সঙ্গেও ঠিক একই রকম হয়েছিল। গ্রুপের খেলা ইংল্য়ান্ডের কাছে হারে, সুপার এইটে শুরুতেই ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়েছিলেন মহম্মদ ইউনিসরা। কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল পাকিস্তান।

কথায় বলে, খাদের কিনারায় না গেলে পাকিস্তান কখনই ভাল কিছু করতে পারে না। চলতি এশিয়া কাপে ভারতের কাছে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে পরাস্ত হওয়ার পর বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন সলমন আঘা-রা। ইউএই-কে কোনওরকমে হারিয়ে সুপার ফোরে ওঠার পর পাকিস্তানকে ফাইনালে দেখছিলেন না অনেকেই। কিন্তু টিম ইন্ডিয়ার কাছে হারের পর শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন সলমনরা। এবার কি হবে? তবে একটা কথা পরিষ্কার, সলমন আঘাদের দলে তেমন কোনও চোয়াল চাপা লড়াকু ক্রিকেটার নেই, ম্য়াচ উইনারের সংখ্য়াও খুবই সীমিত। তাই এই পাকিস্তান দলটা খাদের কিনারায় থেকে ফিরে এসেও বড় কিছু করতে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

৩) চাপের মুখে টিম ইন্ডিয়ার বোলিং ও ফিল্ডিং নিয়ে চিন্তা

গত শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২০২ রান করার পরেও ম্যাচ টাই হয়েছিল। সুপার ফোরে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও তেমন ভাল বল করতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। ফাইনালে টিম ইন্ডিয়ার বড় চিন্তা বোলিং আর ফিল্ডিং। এ কথা সবার জানা টি-২০-তে একটা খারাপ ওভার, আর দু-একটা ক্যাচ মিস ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

৪) অতীতে একের পর এক নক আউটের হারের স্মৃতি

টিম ইন্ডিয়া গত এক বছরে ফাইনালে জেতার অভ্যাস করে ফেলেছে। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও তারপর চলতি বছর মার্চে দুবাইয়ে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে কাপ জেতে রোহিত শর্মার টিম ইন্ডিয়া। অথচ তার আগে একটার পর একটা নক আউট ম্যাচে হেরে চোকার্সের তকমা পড়ে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার গায়ে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল, ২০২৩ আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল, ২০২২ টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ২০১৬ টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হেরেছিল টিম ইন্ডিয়া। এখন টানা দুটো ফাইনালে জিতে নক আউটে অতীতের ব্যর্থতা ঢেকেছে টিম ইন্ডিয়া। তবু অতীত তো অতীতই হয়। রেকর্ড, পরিসংখ্য়ান তো অতীতের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়।

৫) টি-২০ ফর্ম্যাটে ম্যাচ জমার সব রসদ থাকে

টি-২০ মানেই অনিশ্চয়তা। এক ওভারেই ম্যাচ ঘুরে যেতে পারে। কোনও হঠাৎ ক্যাচ, রানআউট, বা ১৫ বলে ৪০ রান—সব কিছুই সম্ভব। তাই এই ফর্ম্যাটে ভারত-পাক লড়াই জমে ওঠার সব রসদ মজুত আছে।