ICC World Cup 2019: মহম্মদ সামির হ্যাটট্রিকে অঘটন বাঁচিয়ে নাটকীয় ম্যাচে আফগানদের হারাল টিম ইন্ডিয়া, অপরাজিত তকমা অব্যাহত রেখে সেমির পথে বিরাটরা
নাটকীয় ম্যাচে জয় ভারতের। (Photo Credits: (Image Credit: AP/PTI Photo)

সাউদাম্পটন, ২২জুন: আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৯-এ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মহম্মদ সামি (Mohammed Shami)-র দুরন্ত হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে অঘটনের হাত থেকে কোনওরকমে বাঁচল ভারত। শনিবার সাউদাম্পটনে আফগানিস্তানকে ১১ রানে জিতে মুখরক্ষা হল বিরাট কোহলিদের, পাশাপাশি পাঁচ ম্যাচ খেলে অপরাজিত তকমা বজায় রাখল ভারত। মাত্র ২২৪ রান করেও বোলারদের সৌজন্যে ও আফগানদের অনভিজ্ঞতার জন্য চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটন হতে হতে বেঁচে গেল।

পাঁচ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট পেয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বিরাট কোহলির দল। অন্যদিকে, ভারতের বিরুদ্ধে জেতার মত পরিস্থিতি তৈরি করেও পরপর ৬টা ম্যাচে হেরে আফগানদের পয়েন্টের খাতা খুলল না।  আরও পডুন- ব্যাটই ধরতে জানেন না, তবু খেললেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট! আর তাতেই ঘটল বড় এক ঘটনা

পাকিস্তান ম্যাচে ভুবনেশ্বর কুমার চোট পাওয়ায় আফগান ম্যাচে দলে সুযোগ পাওয়া সামি ৪০ রানে চার উইকেট নিয়ে মাতিয়ে দিলেন। আফগান ওপেনার হজরতুল্লা ঝাঝাইয়ে আউট করে প্রথম সফলতাটা ভারতকে এনে দিয়েছিলেন সামি। আর তারপর আফগান ইনিংসের শেষের তিনটি উইকেট পরপর তিন বলে তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করে ভারতকে জেতালেন। বুমরা, চাহাল, হার্দিক-দুটি করে উইকেট নিয়ে আফগানদের ইনিংস ২১৩-তে গুটিয়ে দিল। সামি ম্যাচের শেষ তিন বলে আউট করেন মহম্মদ নবি (৫২), আফতাব আলাম (০), মুজব উর রহমান (০)।

প্রথমে ব্যাট করে কোহলিরা ২২৪ রান করার পর অঘটনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আফগনারা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে। ২২৪ রান তাড়া করতে নেমে ১০৪ রানে ৪ উইকেট পড়ে যায় কাবুলিওয়ালার দেশের। কিন্তু ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মহম্মদ নবি পাল্টা প্রতিরোধ গড়তে থাকেন। যে নবিকে বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক থেকে সরিয়ে মহা ভুল করে আফগান বোর্ড। দ্রুত হাফ সেঞ্চুরি করে বিরাটদের উপর চাপ ফেলতে শুরু করেন নবি। জারডান-রশিদ খানরাও চেষ্টা করেন। তবে শেষ অবধি সামির হ্যাটট্রিকে ১১ রানে জেতে ভারত।

এই প্রথমবার চলতি বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। শনিবার সাউদাম্পটনে টুর্নামেন্টে একমাত্র অপরাজিত দলের তকমা নিয়ে খেলে নেমে ভারতীয় দল তাদের পঞ্চম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে করল মাত্র ২২৪ রান। যে রানটা ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথমে ব্যাট করা মানে হারের ঝুঁকি থেকেই যায়। বিরাট কোহলি আর কেদার যাদব ছাড়া ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা আজ আফগান বোলারদের সামনে সফল হননি।

গত ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৩৯৭ রান হজম করার পর আজ আফগান বোলাররা ঘুরে দাঁড়ালেন। ২ উইকেটে ১২২ থেকে ৪ উইকেটে ১৩৫ হওয়াটা ক্ষতি হয়ে যায় ভারতের। তার চেয়েও বড় ক্ষতি হয়ে যায় সেট ব্যাটসম্যানরা আউট হয়ে যাওয়া। পাকিস্তান ম্যাচের জয়ের আত্মতুষ্টিটা যেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে চেপে বসে আজ । আরও পড়ুন- ব্যাটই ধরতে জানেন না, তবু খেললেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট! আর তাতেই ঘটল বড় এক ঘটনা

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ম্যাচের হিরো রোহিত শর্মা (১) শুরুতেই আউট হয়ে যান। তিনে নেমে বিরাট কোহলি ওপেনার লোকেশ রাহুলকে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু সেট হওয়ার ঠিক পরেই নবি-র বলে আউট হয়ে যান রাহুল (৩০)। চারে নেমে বিজয় শঙ্করও সেট হওয়ার মুখে আউট হন, ব্যক্তিগত ২৯ রান। কোহলি কিন্তু অন্যপ্রান্তে মেজাজে খেলছিলেন।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ম্যাচের হিরো রোহিত শর্মা (১) শুরুতেই আউট হয়ে যান। তিনে নেমে বিরাট কোহলি ওপেনার লোকেশ রাহুলকে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু সেট হওয়ার ঠিক পরেই নবি-র বলে আউট হয়ে যান রাহুল (৩০)। চারে নেমে বিজয় শঙ্করও সেট হওয়ার মুখে আউট হন, ব্যক্তিগত ২৯ রান। কোহলি কিন্তু অন্যপ্রান্তে মেজাজে খেলছিলেন। কিন্তু ৬৩ বলে ৬৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলার পর নবির বলে খেলার গতির বিপরীতে আউট হয়ে যান কোহলি। অধিনায়ককে খুইয়ে ৪ উইকেটে ১৩৫ রান হয়ে যাওযার পর ভারতের সব আশা গিয়ে পড়ে ফিনিশার ধোনির উপর। কিন্তু দিনটা আজ ব্যাটসম্যান ধোনির ছিল না ৪১ বলে ২৯ রানের ধীরগতির ইনিংস খেলে রশিদ খানের বলে আউট হন ধোনি। স্কোরবোর্ডে ২০০ রান ওঠার আগেই ভারতের প্রথম ম্যাচ ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যান। সেখান থেকে ভারতের স্কোরকে কিছুটা সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যাবন কেদার যাদব। হার্দিকা পান্ডিয়া (৭) ব্যর্থ হন।

লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতার মাঝে কেদার যাদব ৫২ রানের অতিমুল্যবান রান করেন। ইংল্যান্ড ম্যাচের মহাব্যর্থতা ভুলে আফগান বোলাররা আজ ঘুরে দাঁড়ালেন। গত ম্যাচে ৯ ওভারে ১১০ রান দেওয়া রশিদ খান, আজ কিপটে স্পেল করে ১০ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে নিলেন ধোনির মত ব্যাটসম্যানের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। আফগানদের দুই নবি বোলার গুলাবুদ্দিন ও মহম্মদ- দুটি করে উইকেট নিলেন। আফগানিস্তানের মোট ৬জন বোলার বল করলেন, প্রত্যেকেই অন্তত ১টা করে উইকেট নিয়েছেন।