SC East Bengal vs ATK Mohun Bagan: শুক্রবার আইসএলে বড় ম্যাচ, কলকাতা ডার্বিতে মুখোমুখি এটিকে মোহনবাগান বনাম এসসি ইস্টবেঙ্গল

২৭ নভেম্বর শুক্রবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (ISL 2020-21) প্রথম কলকাতা ডার্বি (Kolkata Derby) ৷ কলকাতা ময়দানের দুই চির প্রতিদ্বন্ধী ইলিশ-চিংড়ির লড়াই এবার আইএসএলে ৷ এই প্রথমবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগে খেলছে এটিকে মোহনবাগান (ATK Mohun Bagan) ও এসসি ইস্টবেঙ্গল (SC East Bengal)। ২৭ তারিখ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামতে চলেছে এটিকে মোহনবাগান ৷ অন্যদিকে ডার্বি দিয়েই ইন্ডিয়ান সুপার লিগ অভিযান শুরু করছে SC ইস্টবেঙ্গল। তার আগে আসুন জেনে নেওয়া যাক কলকাতা ডার্বি নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

কলকাতা ডার্বি হল মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে ফুটবল ম্যাচ। এই দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায় ১০০ বছরের পুরনো এবং ফিফার ক্লাসিক ডার্বি তালিকার বৈশিষ্ট যুক্ত। এই ম্যাচে মুখোমুখি দর্শকদের উপস্থিতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দেয়। দুটি ক্লাব আই লিগে দুবার এবং কলকাতা ফুটবল লিগে কমপক্ষে ৩ বার ডার্বিতে অংশ নেয়। ফেডারেশন কাপ, আইএফএ শিল্ড, ডুরান্ড কাপ ইত্যাদি অন্যান্য প্রতিযোগীতায় প্রায়ই এই দুটি ক্লাবকে ডার্বিতে অংশ নিতে দেখা যায়। সাংস্কৃতিকভাবে, এই ডার্বি স্কটিশ প্রিমিয়ার লিগের পুরাতন ফর্ম ডার্বির অনুরূপ, যেহেতু মোহন বাগানের সমর্থকরা বেশিরভাগ 'ন্যাটিভিস্ট' জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে (রেঞ্জার্স এফসি অনুরূপ) এবং বেশিরভাগ পূর্ববঙ্গের ভক্ত 'অভিবাসী' জনসংখ্যা (সেল্টিক এফসি-র অনুরূপ) প্রতিনিধিত্ব করে।আরও পড়ুন: ISL 2020-21 FC Goa vs Mumbai City FC Live Streaming: কোথায়, কখন দেখবেন এফসি গোয়া বনাম মুম্বাই সিটি এফসি ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার

সঠিক পরিসংখ্যান বিতর্কিত হলেও, ইস্ট বেঙ্গল বনাম মোহন বাগান ৩৬৭টি ডার্বি ম্যাচের ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ইস্টবেঙ্গল ১২৯টি ম্যাচ জিতেছে, মোহনবাগান ১১৮টি ম্যাচ জিতেছে এবং ১২০টি ড্রতে শেষ হয়েছে। খাতায় কলমে প্রথম কলকাতা ডার্বি অনুষ্ঠিত হয় ১৯২৫ সালে। কলকাতা ফুটবল লিগের ম্যাচে সবুজ-মেরুনকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল লাল-হলুদ। গোল করেছিলেন নেপাল চক্রবর্তী। এখনও পর্যন্ত শেষ কলকাতা ডার্বি হয়েছে ১৯ জানুয়ারি ২০২০ সালে। ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল সবুজ মেরুনরা। গোল করেন জোসেবা বেটিয়া ও বাবা দিয়াওয়ারা। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মার্কোস জিমিনেজ দে লা এসপাদা।

কলকাতা ডার্বিতে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন কিংবদন্তি বাইচুং ভুটিয়া। ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে ১৩টি ও মোহনবাগানের হয়ে ৬টি গোল করেছেন পাহাড়ি বিছে। এরপরেই রয়েছেন জোসে ব্যারেটো৷ মোহনবাগানের জার্সিতেই ১৭টি গোল করেন তিনি৷ ব্যারেটোই একমাত্র ফুটবলার যে, একটি ক্লাবের হয়েই এতগুলি গোল করেছেন ডার্বিতে৷

ডার্বিতে বড় ব্যবধানে জয়: ইস্টবেঙ্গল ৫-০ মোহনবাগান, আইএফএ শিল্ড ফাইনাল ১৯৭৫

৯৭ বছরের ডার্বির ইতিহাসে ৭৫ সালের আইএফএ শিল্ড ফাইনাল আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ছ’বছর পর শিল্ড ফাইনালে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালে মোহনবাগানকে পাঁচ গোলের মালা পরিয়েছিল তারা। কোনও দলের এখনও পর্যন্ত ডার্বিতে এটাই সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ইস্টবেঙ্গল ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়। তাও আবার পেনাল্টি মিস করেই। সুরজিত সেনগুপ্ত, শ্যাম থাপা ও রঞ্জিত মুখোপাধ্যায় গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধেও ইস্টবেঙ্গলের আগুনে ফর্ম অব্যাহত ছিল। শ্যাম থাপা দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে নিজের ২ নম্বর ও ম্যাচের চার নম্বর গোলটি করেছিলেন। ৮৪ মিনিটে শুভঙ্কর স্যান্নাল মোহনবাগানের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিয়েছিলেন।

ইস্টবেঙ্গল ৪-১ মোহনবাগান, সেমিফাইনাল, ফেডারেশন কাপ ১৯৯৭

১৯৯৭ সালের ১৩ জুলাই ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান। বাইচুং ভুটিয়ার হ্যাটট্রিকে মোহনবাগানকে ৪-১ হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল৷ মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন চিমা ওকোরি৷ সেসময় নতুন ডায়মন্ড সিস্টেম নিয়ে অমল দত্ত পরীক্ষা করছিলেন। বিপক্ষের বক্সে আক্রমণের ঝড় তুলছিলেন বাগানের ফুটবলাররা। এমনকী অমল দত্ত ম্যাচের আগে থেকেই মাইন্ড গেমও শুরু করে দিয়েছিলেন। বাইচুংকে ‘চুং চুং’ বলেও ডেকেছিলেন তিনি। যদিও লাল হলুদ কোচ পিকে বন্দ্যোপাধ্যায় এসব নিয়ে কোনও মাথাই ঘামাননি। ম্যান ম্যানেজমেন্টের মাস্টার ছিলেন তিনি। দলের পারফরম্যান্সে আগুন জ্বালাতে জানতেন পিকে। যুযুধান দুই কোচের মস্তিষ্কের লড়াইয়ে শেষ হাসি তিনিই হেসেছিলেন।

ডার্বিতে হ্যাটট্রিক:

অমিয় দেব (মোহনবাগান) ৪ গোল, দ্বারভাঙা শিল্ড, ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৮।

অসিত গঙ্গোপাধ্যায় (মোহনবাগান) ৩ গোল, রাজা মেমোরিয়াল শিল্ড, ৬ অগস্ট ১৯৩৭।

বাইচুং ভুটিয়া (ইস্টবেঙ্গল) ৩ গোল, ফেডারেশন কাপ, ১৩ জুলাই ১৯৯৭।

চিডি এডে (মোহনবাগান) ৪ গোল, আই লিগ, ২৫ অক্টোবর ২০০৯।

আইএসএলে এটিকে মোহনবাগানের দল:

প্রধান কোচ: অ্যান্টোনিও লোপেজ হাবাস

গোল রক্ষক: অরিন্দম ভট্টাচার্য, আরশ শেখ, আরিয়ান নীরজ লাম্বা, অভিলাষ পাল, ধীরাজ সিং।

ডিফেন্ডার: টিরি, প্রবীর দাস প্রীতম কোটাল, সন্দেশ ঝিঙ্গান, শুভাশিস বোস, সুমিত রাঠি।

মিড ফিল্ডার: বরিস সিং, ব্রাডেন ইনম্যান, কার্ল ম্যাকহাগ, এডু গার্সিয়া, জাভিয়ের হার্নান্দেজ, গ্লান মার্টিনস, জয়েশ রানে, মিখায়েল সুসাইরাজ, এন ইংসন সিংহ, প্রণয় হালদার, রেজিন মিখায়েল, সাহিল শেখ।

ফরওয়ার্ড: ডেভিড উইলিয়মস, মনবীর সিং, মহম্মদ ফরদিন আলি মোল্লা, রয় কৃষ্ণ।

এসসি ইস্টবেঙ্গল:

হেড কোচ- রবি ফাউলার

গোলকিপার- দেবজিৎ মজুমদার, রফিক আলি, মিরশাদ মিচু, শঙ্কর রায়

ডিফেন্ডার- অভিষেক আম্বেদকর, অনিল চাওয়ান, ড্যানিয়েল ফক্স, গুরতেজ সিং, লালরামচুল্লোভা, মহম্মদ ইরশাদ, নারায়ন দাস, এন রোহেন সিং, নোভিন গুরুং, রানা ঘরামি, সামাদ মালিক, স্কট নিভিল্লি, প্রীতম সিং

মিডফিল্ডার- আরুন আমাদা-হলোওয়ে, অ্যান্টোনি জাইরু, ইউগেনসিওন লিনদোহ, হাওব্যাম সিং, জ্যাকুস, লোকেন মিতি, মিলন সিং, মহম্মদ রফিক, শেহনাজ সিং, সুরচন্দ্র সিং, মাত্তি স্টেইনমান, ওয়াহেনবাম লুয়াং, যুমনাম সিং

ফরোয়ার্ড- বলবন্ত সিং, সিকে বিনীত, গিরিক খোসলা, হরমনপ্রীত সিং, জেজে লালপেখলুয়া