২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার শেষ ষোলোর (Round of 16) ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা রোমাঞ্চকর ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে. ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১১ মিনিটে ৩টি গোল করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়. তবে এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পরেই ম্যাচ পরিচালনা এবং রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাজমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে. একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ দাবি করছেন, ম্যাচের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে.
ভিডিওতে ওঠা পক্ষপাতের অভিযোগ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত
সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওটিতে মূলত ম্যাচের দু'টি বড় সিদ্ধান্তের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে. প্রথমত, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মিশরের মোস্তফা জিকোর একটি গোল ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর বাতিল করা হয়. রেফারি ফাউলের কারণে গোলটি নাকচ করে দেন. মিশরের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের দাবি, গোলটি সম্পূর্ণ বৈধ ছিল এবং রেফারিদের এই সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়.
দ্বিতীয়ত, ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৩ মিনিট) এনজো ফার্নান্দেজের করা জয়সূচক গোলটির বিল্ড-আপের সময় মিশরের এক ডিফেন্ডারকে ফাউল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে. কিন্তু রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং সেই মুভ থেকেই আর্জেন্টিনা জয়সূচক গোলটি পেয়ে যায়. মিশরীয় শিবির এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানালেও রেফারি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন.
Fizeram um compilado de 4 minutos mostrando os lances em que a Argentina foi favorecida contra o Egito.
Simplesmente um escândalo mundial. Quanta sujeira envolvida. 🤢 pic.twitter.com/od2BQ1bZY1
— FLA Henrique (@flahenriquebr) July 7, 2026
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ঘটনাক্রম ও আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তন
আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই মিশর দারুণ ফুটবল উপহার দেয়. ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিম এবং ६৭ মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোলে ২-० ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে বড় অঘটনের ইঙ্গিত দিচ্ছিল মিশর. প্রথমার্ধে লিওনেল মেসির একটি পেনাল্টি কিকও আটকে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের.
ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত কোনো পথ খুঁজে না पाया আর্জেন্টিনা এরপর এক রুদ্ররূপ ধারণ করে. ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেডে ব্যবধান কমায় আলবিসেলেস্তেরা. এর ঠিক চার মিনিট পর, ৮৩ মিনিটে লিওনেল মেসি নিখুঁত শটে গোল করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান. ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ठीक তখনই ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ দর্শনীয় হেডের মাধ্যমে গোল করে আর্জেন্টিনার ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন.