Team India Jersey Sponsor: অনলাইন ফ্যান্টাসি গেমিং সংস্থা 'ড্রিম ১১'-র পর এবার ভারতীয় ক্রিকেটের জার্সিতে ঠাঁই পেতে চলেছে টায়ার প্রস্তুতকারী সংস্থার নাম। অনলাইন গেমিংয়ে সরাসরি অর্থ নিষিদ্ধ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া আইনের পর, ভারতীয় দলের মূল স্পন্সর হিসাবে নিজেদের সরিয়ে নেয় 'ড্রিম ইলেভেন' (Dream 11)। এরপরই নতুন স্পন্সর খুঁজতে শুরু করে বিসিসিআই (BCCI)। যদিও চলতি এশিয়া কাপে জার্সিতে কোনও স্পন্সর ছাড়াই খেলছেন না সূর্যকুমার যাদব-রা। ভারতীয় ক্রিকেটের জার্সি স্পন্সর পেয়ে গেল বিসিসিআই। বিখ্যাত টায়ার প্রস্তুতকারী সংস্থা 'অ্য়াপোলো টায়ার্স' (Apollo Tyres) টিম ইন্ডিয়ার জার্সি স্পন্সর হতে চলেছে। মোট ৫৭৯ কোটি টাকার তিন বছরের চুক্তিতে ভারতীয় ক্রিকেটের জার্সি স্পন্সর হচ্ছে Apollo Tyers। এই তিন বছরে ১২১টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ম্যাচ, ২১টি আইসিসি টুর্নামেন্টের টিম ইন্ডিয়াক ম্য়াচে নিজেদের লোগো ব্যবহার করবে এই টায়ার সংস্থাটি।
ড্রিম ইলেভেন-এর চেয়েও অনেক বেশি অর্থ দিচ্ছে 'অ্য়াপোলো টায়ার্স। খুব সম্ভবত, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলা মহিলাদের বিশ্বকাপে নয়া স্পন্সরের জার্সি পরে খেলবেন হরমনপ্রীত কৌর-রা।
ম্য়াচ প্রতি সাড়ে ৪ কোটি টাকা দিচ্ছে অ্যাপোলো টায়ার্স
ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সিতে লোগো ও নাম ব্যবহারের জন্য ম্য়াচ প্রতি সাড়ে ৪ কোটি টাকা দিতে চলেছে অ্যাপলো টায়ার্স। যেখানে ড্রিম ইলেভেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি স্পন্সর হিসাবে ম্যাচ প্রতি গড়ে প্রায় ৩.১৭ কোটি টাকা। ড্রিম১১ ২০২৩ জুলাই থেকে ২০২৬ মার্চ পর্যন্ত (প্রায় ২.৭৫ বছর) ভারতীয় পুরুষ, মহিলা ও আন্ডার-১৯ দলের জার্সির লিড স্পন্সরশিপের জন্য ৩৫৮ কোটি টাকা দেওয়ার চুক্তি সেরেছিল। তবে চুক্তি শেষের আগেই সরে দাঁড়ায় অনলাইন গেমিং অ্যাপ সংস্থাটি। অতীতে সাহারা, ওপ্পো, বাইজু-র মত সংস্থা ভারতীয় ক্রিকেটের মূল স্পন্সর ছিল। কিন্তু তাদের আর্থিক অবস্থা একবারে শোচনীয় হয়ে যায়। অবশ্য সেগুলি নেহাতই কাকতলীয় ব্য়াপার। আসল বিষয় হল, ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ে ১৪৫ কোটি দেশবাসারী এতই আগ্রহ যে জার্সিতে একটা কোম্পানির নাম, সেই কোম্পানির জনপ্রিয়তা একলাফে অনেকটা বাড়িয়ে দেয়।
উইলস থেকে সাহারা, স্টার স্পোর্টস থেকে ওপো- ভারতীয় দলে অতীতের জার্সি স্পন্সররা
ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম জার্সি স্পন্সর ছিল আইটিসি-উইলস। এরপর সাহারা ইন্ডিয়া, স্টার স্পোর্টস, ওপো, বাইজুস ও ড্রিম-১১ টিম ইন্ডিয়ার মূল স্পন্সর হয়। অ্য়াপলো টায়ার জার্সি স্পন্সর হওয়া নিয়ে খবরের পর নেটিজেনরা ঠাট্টা করে লেখেন, ওপো, বাইজুস, ড্রিম-১১-র পর এবার তাহলে অ্য়াপলো টায়ারের পাংচার হওয়ার পালা।
অ্য়াপোলো টায়ার্স নিয়ে কিছু জানা-অজানা কথা
অ্যাপোলো টায়ার্স লিমিটেড ভারতের একটি বহুজাতিক টায়ার প্রস্তুতকারক কোম্পানি। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটির সদর দপ্তর গুরুগ্রামে অবস্থিত এবং এটি বিশ্বজুড়ে টায়ার বিক্রি করে। এটি বিভিন্ন ধরণের গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং বাণিজ্যিক গাড়ির জন্য টায়ার তৈরি করে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কোম্পানিটির মোট আয় ছিল প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। 'অ্য়াপোলো টায়ার্স' যাত্রীবাহী চারচাকা গাড়ি, SUV, বাইক-স্কুটার, ট্রাক, বাস, ও অফ-হাইওয়ে ভেহিকলস (OHT)–এর জন্য টায়ার তৈরি করে। কেরালা, গুজরাট, অন্ধ্র প্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে অ্যাপোলের টায়ার কারখানা আছে। নেদারল্যান্ডস (Vredestein ব্র্যান্ড), হাঙ্গেরি ও অন্যান্য দেশে উৎপাদন কেন্দ্র আছে তাদের। ভারতের গাড়ি ও দুচাকার বাজার দ্রুত গতিতে বাড়ছে, ততই বাড়ছে টায়ারের চাহিদা। আর এই কথা মাথায় রেখেই ভারতীয় ক্রিকেটে বিপুল বিনিয়োগ করে নিজেদের প্রচার তুঙ্গে করতে চাইছে অ্যাপেলো টায়ার্স।
বিসিসিআই স্পনসরশিপে বাদ পড়ছে যে ধরনের কোম্পানিগুলি
ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্পনসরশিপের দৌড় থেকে একঝাঁক কোম্পানিকে বাদ দিয়েছে বিসিসিআই। ২০২৫ সালের ‘প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, যেসব কোম্পানি রিয়েল-মানি গেমিং, বেটিং বা জুয়া চালায় (যেমন— ড্রিম ১১), তারা আর স্পনসর হতে পারবে না। শুধু তাই নয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি, মদ, তামাকজাত পণ্য, পর্নোগ্রাফি বা যেসব ব্যবসা জনসমাজের নৈতিকতার বিরুদ্ধে যায়, তাদেরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান স্পনসরদের সঙ্গে ঝামেলা এড়াতে ব্যাঙ্কিং, বীমা আর কিছু নির্দিষ্ট খাতের কোম্পানির ওপরও বেশ কিছু বিধিনিষেধ রাখছে বোর্ড।