Sawan 2025: শ্রাবণ (Sawan) মাস চলছে। বলা হয়, এই মাসে যদি কেউ ভক্তি ভরে শিবের (Lord Shiva) পুজো করেন, তাহলে তাঁর মনোবাসনা পূর্ণ হয়। দেবাদিদেবের পুজোর মাসে তাই ভারতের বহু মানুষ নিরামিষ (উত্তর ভারতে মূলত) ভক্ষণ করেন। আবার কেউ ভগবান শিবকে শ্মশানচারী ব্রক্ষ্মচারী বলে মনে করেন। যিনি বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ডর সমস্ত শক্তির আধার। তাই দক্ষিণ ভারতের অনেক অংশ শিবের পুজো করা হয় ছাগ মাংস দিয়ে কিংবা ছাগ মাংসের মেটে নিবেদন। অর্থাৎ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিবকে তুষ্ট করার রীতি পৃথক। তবে পুজোর ধরণ যেমনই হোক না কেন, শ্রাবণ মাসে সবুজ রঙের চুড়ি পরে মহিলারা দেবাদিদেবের পুজো করেন অত্যন্ত নিষ্ঠা ভরে।
ভগবান শিব কেন গায়ে ভষ্ম মাখেন?
কথিত আছে, দেবী পার্বতী যখন মহাদেবকে ভষ্ম মাখার কারণ জিজ্ঞেস করেন, তখন তিনি হাসি মুখে স্ত্রীকেতার কারণ বর্ণনা করেন।
ভষ্ম অর্থাৎ ছাই নস্বর শরীরের (Lord Shiva Smears Ash) এবং জগতের ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতির প্রতীক। তাই এই জগতে কোনও কিছুই স্থায়ী নয়। আত্মার সঙ্গে মনের সম্পর্কই একমাত্র সহজাত। ছাই মেখে এমনই বার্তা দেন দেবাদিদেব।
দেবাদিদেব শ্মশানবাসী। ত্যাগই তাঁর জীবনের মূল প্রতীক। সেই বার্তা জগৎ সংসারে পৌঁছে দিতেই তিনি চিতা ভষ্ম মাখেন বলে কথিত রয়েছে।
ছাই মাখা শিব অতিপ্রাকৃত শক্তি ও মায়ার উপর জয়ের প্রতীক। এমন মনে করা হয় তান্ত্রিক মতে। শুধু তাই নয়, তন্ত্র মন্ত্রের জগতে ভষ্মকে শুদ্ধ আচার বলে মনে করা হয়।
দেবাদিদেব শ্মশানবাসী। যেখানে নস্বর দেহ পুড়ে লীন হয়ে যায়, সেখানেই বাস মহাদেবের। শ্মশানের সঙ্গে দেবাদিদেবের যে গভীর সম্পর্ক, ভষ্ম মাখা তাঁর দেহ সেই ইঙ্গিত দেয়।
মহাদেব নিজে চিতা ভষ্ম মেখে তাঁর ভক্তদের শুদ্ধ করেন বলেও মনে করা হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে।
দেবাদিদেবের ভষ্ম মাখা শরীর জীবন, মৃত্যুর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার প্রতীক বলেও বিবেচনা করা হয়।