প্রতি বছর ২ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক শিশু বই দিবস। এই দিনটি শিশুদের বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ জাগানোর জন্য বিশেষভাবে পালন করা হয়। দিবসটির লক্ষ্য শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, তাদের কল্পনা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা।

কবে প্রথম শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক শিশু বই দিবস? ১৯৬৭ সালে আন্তর্জাতিক শিশু বই দিবসের সূচনা হয়। এই দিবসটি প্রতি বছর একটি বিশেষ থিম নিয়ে উদযাপন করা হয়। থিমের মাধ্যমে শিশুদের মননে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং তাদেরকে সাহিত্যের নানা রঙে রঙিন করার চেষ্টা করা হয়। দিবসটির পেছনে বড়ো ভূমিকা রেখেছে আন্তর্জাতিক শিশু বই পরিষদ (IBBY), যা শিশুদের জন্য মানসম্মত বই তৈরি এবং প্রচারের কাজ করে থাকে।

এছাড়া, এই দিনটিতে বিভিন্ন বইমেলা, আলোচনা সভা, সেমিনার এবং কর্মশালা আয়োজন করা হয়, যেখানে শিশুদের জন্য বিশেষ বইয়ের প্রদর্শনী এবং সাহিত্যিকদের উপস্থিতি থাকে। স্কুল, কলেজ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শিশুরা এই দিনটি উদযাপন করে। গল্পের বই পড়ে এবং লেখকদের সাথে আলোচনায় অংশ নেয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুরা এই দিবসটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করে। স্কুল, লাইব্রেরি এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বই পড়ার প্রতিযোগিতা, পাঠচক্র এবং নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এদিন শিশুদের জন্য জনপ্রিয় লেখকরা তাদের নতুন বইয়ের প্রকাশনা করেন, এবং অনেক সেলিব্রিটি বই পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহ এবং ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বই পড়া শুধুমাত্র জ্ঞানার্জন নয়, বরং এটি শিশুদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তাই এই দিনটির বিশেষ গুরুত্ব আছে।