সাধারণত বাজার থেকে আমরা ঘি কিনে আনি। অনেকে ঘরে তৈরি করেন দুধের সর দিয়ে । কিন্তু জানেন কি ছানার জল থেকেও ঘি তৈরি করা যায় এবং সে ঘি এর স্বাদ হয় অপূর্ব , পুষ্টিগুণে ভরপুর। ছানা তৈরির পর যে জলটা বেরিয়ে আসে, অনেকেই সেটিকে ফেলেই দেন। অথচ এই ছানার জল অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং নানা কাজে ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে এই জল দিয়ে ঘি তৈরি করা সম্ভব। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এটা একদম সত্যি!

ছানার জলে থাকা ল্যাকটোজ ও প্রোটিন উষ্ণতায় ঘনীভূত হয়ে ধীরে ধীরে ঘি-র মতো তৈলাক্ত পদার্থে রূপ নেয়। এটি অনেকটা স্পেশাল ক্ল্যারিফায়েড বাটারের মতোই দেখতে এবং স্বাদেও বেশ ভাল।

কীভাবে বানাবেন? ছানা বানানোর পর সংগ্রহ করা জল – ৩-৪ কাপ । একটি গভীর কড়াই বা হাঁড়িতে ছানার জল ঢেলে দিন। মাঝারি আঁচে গরম করতে থাকুন। প্রথমে ফুটে উঠবে, তারপর ধীরে ধীরে জল বাষ্প হয়ে কমে যাবে। ৩০–৪০ মিনিটের মধ্যে জল শুকিয়ে একটি সোনালি হলুদ রঙের তেলজাতীয় পদার্থ জমা হবে। এবার গ্যাস বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে একটি পরিষ্কার কাপড় বা ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। যে তরলটি পাবেন সেটিই হচ্ছে প্রাকৃতিক ছানার জল থেকে তৈরি ঘি।

কোথায় ব্যবহার করবেন?

এই ঘি আপনি রুটি, পরোটা, খিচুড়ি বা ডালের ওপর দিতে পারেন। রান্নাতেও ব্যবহার করা যায়। এতে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিড, মিনারেলস ও প্রোটিন, যা হজমে সাহায্য করে।

উপকারিতা: ফ্যাটের পরিমাণ কম। প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি। ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে তৈরি হওয়ায় একেবারেই বর্জ্যহীন কনসেপ্ট।