অফিস থেকে বেরোতেই বুকে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের অসুখ নয়তো?
প্রতীকী ছবি (Photo Credit-ANI)

হাঁটতে চলতে কোনওই কষ্ট নেই, এমনিতেও কোনওরকম শারীরিক অসুস্থতা জনিত দুর্বলতা আপনাকে গ্রাস করেনি। আচমকাই পড়ে গেলেন, তড়িঘড়ি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে জানা গেল, আপনার হার্ট অ্যাটাক (heart attack)  হয়েছে। বুকের চিনচিনে ব্যথা যে হৃদযন্ত্রের ছুটি চাইছে তা বুঝতেই অনেকটা দেরি হয়ে যায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, হার্টের কমজোরি হয়ে পড়ার ঘটনা রাতারাতি হয় না, বরং  বেশ আগে থেকেই সংকেত দিতে থাকে হার্ট। অনেক সময় দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ভিড়ে হার্টের সেই সংকেত আমরাই বুঝে উঠতে পারি না অথবা অবহেলা করে বসি। আরও পড়ুন- মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে, সাইনাসকে রুখতে মেনে চলুন ঘরোয়া টোটকা

হৃদযন্ত্রকে ভাল রাখতে হলে নিজে থেকেই সাবধান হতে হবে। তাহলেই হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা এড়াতে পারবেন। সতর্কতা অবলম্বন করুন :

হাঁটাচলার সময় বুকে কোনও রকমের চাপ বা অস্বস্তি হচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন। অনেকের ক্ষেত্রে বুকে চিনচিনে ব্যথা থেকে জ্বালাও হয়। তেমনটা হলেও তাই সাবধান হতে হবে। হার্ট দুর্বল হলে ব্যথা কেবল হৃদযন্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। হাঁটাহাঁটির সময় চোয়াল বা হাতেও ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণত হাঁটাচলা করলে এই ব্যথা জানান দেয়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে বিশ্রামের সময়েও ব্যথা টের পাওয়া যায়। তাঁদের বেলায় আবার হাঁটাচলায় এ ব্যথা আরও বাড়ে। মাঝে মাঝেই শরীর হালকা হয়ে পড়া বা ব্ল্যাক আউট হলে তা যে শুধুই মস্তিষ্কের কোনও অসুখ বা রক্তচাপজনিত সমস্যা তেমনটা নাও হতে পারে। তাই এমন প্রায়ই হলে অবশ্য হার্টেরও পরীক্ষা করান। হৃদস্পন্দনের দিকে খেয়াল রাখুন। হৃদযন্ত্রের অনিয়ন্ত্রিত গতি বিপদের হাতছানি অবশ্যই। সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে গেলে বা বুকে চাপ লাগলে হার্টের অবস্থা জেনে নিন।

তাই সমস্যা শুরুর অনেক আগে থেকেই হৃদযন্ত্রের যত্ন বিশেষ প্রয়োজন। ওবেসিটি, হাই ব্লাড প্রেশার, ধূমপান, কোলেস্টেরল, হাইপার টেনশন থাকলে একদিন হৃদরোগ এসে আপনার হৃদযন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে। এদের মধ্যে বেশির ভাগ লাইফস্টাইল ডিজিজ হলেও একমাত্র ধূমপান পুরোটাই নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই প্রথমেই ওটা বাদ দিতে হবে। তার পর লাইফস্টাইলের কারণে হওয়া অসুখগুলো ঠেকাতেও যত্নশীল হতে হবে। যাঁদের পরিবারে হার্টের অসুখের ইতিহাস আছে,  তাঁদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে।