গ্রীষ্মকাল এলেই তরমুজের চাহিদা বেড়ে যায়। এর স্বাদ মিষ্টি ও শরীরকে ঠান্ডা রাখে, তাই এটি জনপ্রিয় একটি ফল। তবে বাজারে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী তরমুজে রাসায়নিক ও কৃত্রিম লাল রঙ ব্যবহার করেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই তরমুজ কেনার আগে বুঝতে হবে এতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক বা রঙ মেশানো হয়েছে কিনা।
তরমুজে রাসায়নিক ব্যবহার বোঝার উপায়
১. অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রঙ ও অতিরিক্ত মসৃণতা:
* রাসায়নিক মেশানো তরমুজ দেখতে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল ও বেশি মসৃণ হয়।
* স্বাভাবিক তরমুজের ত্বক কিছুটা অমসৃণ ও প্রাকৃতিক সবুজ রঙের হয়।
* অস্বাভাবিক মিষ্টি স্বাদ:
* ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ইথিলিন রাসায়নিক দিয়ে তরমুজ কাঁচা থাকা অবস্থায় পাকানো হয়।
* এ ধরনের তরমুজ স্বাদে অস্বাভাবিক মিষ্টি এবং খাওয়ার পর সামান্য ঝাঁঝালো অনুভূতি দেয়।
* খাওয়ার পর অস্বস্তি।
* রাসায়নিকযুক্ত তরমুজ খেলে অনেক সময় পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া বা অ্যালার্জি হতে পারে।
তরমুজে লাল রং ব্যবহার বোঝার উপায়
১. কাটা অংশে হাত দিলে লালচে রঙ লেগে যাওয়া:
* যদি তরমুজের ভেতরের লাল অংশে আঙুল ঘষার পর লালচে দাগ পড়ে, তবে এতে কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করা হয়েছে।
* জলে ভিজিয়ে পরীক্ষা:
* একটি গ্লাস জলে তরমুজের টুকরো ভিজিয়ে রাখুন। যদি কিছুক্ষণ পর জল লাল বা গোলাপি হয়ে যায়, তবে এতে কৃত্রিম রঙ মেশানো হয়েছে।
* অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লাল রঙ:
* প্রাকৃতিক তরমুজের লাল রঙ সাধারণত হালকা লাল বা গাঢ় গোলাপি হয়। রাসায়নিকযুক্ত তরমুজ অনেক সময় অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লালচে কমলা হয়।
নিরাপদ তরমুজ চেনার উপায়
* প্রাকৃতিকভাবে পাকা তরমুজের গায়ে হলুদ দাগ থাকে, যা মাটির সংস্পর্শে থাকার প্রমাণ।
* তরমুজের গন্ধ স্বাভাবিক ও মিষ্টি হলে তা সাধারণত রাসায়নিকমুক্ত হয়।
* সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনা বা নির্ভরযোগ্য বাজার থেকে তরমুজ কেনা নিরাপদ।
অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের জন্য তরমুজে রাসায়নিক ও কৃত্রিম রঙ মেশাচ্ছে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই তরমুজ কেনার সময় সতর্ক হওয়া জরুরি। সহজ কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে রাসায়নিক ও রঙ মেশানো তরমুজ চেনা সম্ভব, যা আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।