রাতের খাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৈনন্দিন অভ্যাস। যা সরাসরি আমাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। তবে রাতের খাবার সঠিক সময়ে অনেকেই খান না। রাত্রি নটা দশটা এগারোটা কেউ আবার রাত বারোটায় রাতের খাবার খান। এটা একেবারেই সঠিক নয়। সাধারণত রাত ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ডিনার সেরে ফেলা স্বাস্থ্যসম্মত বলে ধরা হয়। এই সময়ের মধ্যে খাওয়া হলে হজমের জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত দেরিতে, বিশেষত রাত ৯টা বা তার পর ডিনার করলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হয় না, গ্যাস্ট্রিক, অম্বল, এসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়। বেশি রাতে খাওয়ার ফলে শরীরে ফ্যাট জমার প্রবণতা বাড়ে, যা ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধি, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
রাতের খাবারের পরে যদি সঙ্গে সঙ্গেই শুয়ে পড়া হয়, তবে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের আশঙ্কা থাকে। এতে ঘুম ব্যাহত হতে পারে, ফলে পরদিন ক্লান্তি, মনঃসংযোগের অভাব দেখা দেয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার এবং ঘুমের মধ্যে অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টার ব্যবধান থাকা উচিত। এতে খাবার হজম ভালো হয় এবং শরীরের বিপাক প্রক্রিয়াও সঠিকভাবে কাজ করে।
সুস্থ থাকার জন্য শুধু সঠিক সময়ে ডিনার করাই নয়, বরং হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। যেমন—সবজি, ডাল, স্যুপ বা হালকা রুটি-সবজি। তেল-মশলাযুক্ত বা ভারী খাবার রাতে পরিহার করাই ভালো। সময়মতো ডিনার আমাদের ভালো ঘুম এবং ভালো স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি হতে পারে।