মিষ্টি স্বাদের ছোট্ট এক ফল খেজুর। তবে  উপকার অনেক।  তবে খেজুর শুধুমাত্র উপবাসভঙ্গের ফল নয়—এর রয়েছে অসাধারণ স্বাস্থ্যগুণ। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় খেজুর খেলে শরীর পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি, শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তবে মাত্রার বাইরে গিয়ে খেলে হতে পারে বিপরীত প্রভাবও। তাই খেজুর খান নিয়ম মেনে।জেনে নিন প্রতিদিন কতগুলি খাবেন, আর কী কী গুণ আছে এই ছোট ফলটির!

চিকিৎসকরা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক একজন সুস্থ মানুষকে দিনে ৩ থেকে ৬টি খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দেন। যারা ওজন কমাতে চান বা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে দিনে ২-৩টি খেজুর যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেলে রক্তে চিনি বাড়তে পারে, কারণ খেজুর প্রাকৃতিক চিনি (ফ্রুকটোজ)-এ সমৃদ্ধ।

খেজুরের প্রধান গুণাগুণ

১. শক্তি বাড়ায়:

খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি—গ্লুকোজ, সুক্রোজ ও ফ্রুকটোজ। এটি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়, তাই সকালে বা ক্লান্তির সময়ে খেলে মিলবে চটজলদি এনার্জি।

২. হজমে সহায়ক:

খেজুরে থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। নিয়মিত খেজুর খেলে পাচনতন্ত্র সুস্থ থাকে।

৩. হৃদয় সুস্থ রাখে:

পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খেজুর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

৪. রক্তস্বল্পতা রোধে:

খেজুরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, যা রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সহায়ক। বিশেষ করে যারা অ্যানিমিয়ায় ভোগেন, তাদের জন্য খেজুর বেশ উপকারী।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও সেল ক্ষয় রোধ করে।

কখন খেলে ভালো কাজ পাবেন?

সকালে খালি পেটে: হালকা গরম জলের সঙ্গে ২-৩টি খেজুর খেলে পেট পরিষ্কার ও শক্তি বৃদ্ধি পায়। ওয়ার্কআউটের আগে বা পরে: প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে খেজুর অসাধারণ। রাতে ঘুমের আগে: খেজুর ও দুধ মিশিয়ে খেলে ভাল ঘুম ও হাড় মজবুত হয়।ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেশি খেজুর খাবেন না। ওজন কমাতে চাইলে মেপে খেতে হবে। খেজুর বেশি খেলে গ্যাস, অম্বল বা পেট ভার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।