আজকের দিনে যখন কেমিক্যাল যুক্ত প্রসাধনী আমাদের ত্বকে নানা সমস্যা সৃষ্টি করছে, তখন মানুষ ক্রমেই ফিরে যাচ্ছে প্রকৃতির কোলে। আর প্রাকৃতিক উপাদানগুলির মধ্যে অ্যালোভেরা যেন এক আশ্চর্য উপহার। ত্বক থেকে চুল, শরীর থেকে হজম – অ্যালোভেরার উপকারিতা অসীম। তবে বাজার থেকে কেনা অ্যালোভেরা জেলের পরিবর্তে যদি ঘরেই তৈরি করা যায় একেবারে বিশুদ্ধ জেল, তাহলে কেমন হয়?

 

অ্যালোভেরা একটি কাণ্ডযুক্ত রসালো গাছ, যা বহু শতাব্দী ধরে চিকিৎসা ও সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে রয়েছে ভিটামিন A, C, E, বি১২, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ও মিনারেলস। অ্যালোভেরার জেল প্রয়োগ করলে ত্বকে ঠান্ডাভাব আসে, ব্রণ কমে, পোড়া জায়গা সারে এবং রোদে পোড়া ত্বক আরাম পায়। এছাড়া এটি স্কাল্পের জন্যও অত্যন্ত উপকারী, চুলের গোড়া মজবুত করে এবং খুশকি কমাতে সাহায্য করে।

বাড়িতে অ্যালোভেরা জেল তৈরির উপায়: ঘরে অ্যালোভেরা জেল তৈরি করা মোটেই কঠিন নয়। দরকার কেবল একটি সতেজ অ্যালোভেরা গাছ, একটু ধৈর্য আর কিছু প্রাথমিক উপকরণ।

যা যা লাগবে: অ্যালোভেরা পাতা (তাজা, স্বাস্থ্যবান), ছুরি ও চামচ, ব্লেন্ডার (যদি মসৃণ করতে চান), লেবুর রস বা ভিটামিন E ক্যাপসুল (সংরক্ষণের জন্য ঐচ্ছিক), কাচের পাত্র (সংরক্ষণের জন্য)

প্রস্তুতির পদ্ধতি: 

১. পাতা কাটা ও পরিষ্কার করা:

প্রথমে অ্যালোভেরা গাছ থেকে একটি বা দুটি মোটা পাতা কেটে নিন। কাটার পর পাতাটি উল্টো করে রেখে দিন ১০-১৫ মিনিট, যাতে হলুদ রঙের আঠালো রস (অ্যালোইন) বেরিয়ে যায়। এটি ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়।

২. জেল সংগ্রহ:

এবার একটি ধারালো ছুরি দিয়ে পাতার কাঁটা অংশ কেটে নিন। পাতাটি চিরে ভিতরের জেলি অংশটি চামচ দিয়ে সাবধানে আলাদা করে একটি পাত্রে রাখুন।

৩. মসৃণ করা:

চাইলে এই জেলটি ব্লেন্ডারে দিয়ে মসৃণ করে নিতে পারেন। এতে ব্যবহারে সুবিধা হবে।

৪. সংরক্ষণের উপায়:

জেলে এক চামচ লেবুর রস বা একটি ভিটামিন E ক্যাপসুল মিশিয়ে নিলে এটি দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। এরপর একটি কাচের পাত্রে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। এই জেল ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য থাকবে।

ব্যবহারের নানা উপায়ঃ

১. ত্বকের যত্নে:

রাতে ঘুমানোর আগে মুখে জেল লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে ত্বক হাইড্রেটেড থাকে। ব্রণ, দাগ ও কালচে ভাব কমে যায়।

২. রোদে পোড়া ত্বকে:

বাইরে থেকে ফিরে রোদে পোড়া বা জ্বালা ভাব থাকলে অ্যালোভেরা জেল ঠান্ডা আরাম দেয়।

৩. চুলে ব্যবহার:

শ্যাম্পুর আগে স্কাল্পে জেল ম্যাসাজ করলে খুশকি কমে এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়।

৪. শেভিং জেল হিসেবে:

পুরুষদের জন্যও এটি দারুণ একটি প্রাকৃতিক শেভিং জেল।

৫. মেকআপ রিমুভার:

তুলোয় অ্যালোভেরা জেল নিয়ে মেকআপ পরিষ্কার করলে ত্বক পরিষ্কার ও ময়েশ্চারাইজড থাকে।

যদি আপনি প্রথমবার ব্যবহার করছেন, তাহলে আগে হাতে বা কানের পাশে অল্প করে জেল লাগিয়ে দেখে নিন কোন অ্যালার্জি হচ্ছে কি না। বাজারচলতি প্রসাধনীতে অ্যালোভেরা লেখা থাকলেও সেখানে অনেক কেমিক্যাল মেশানো থাকে, তাই ঘরোয়া জেল অনেক বেশি নিরাপদ।

 

আজকের দিনে যখন স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট নিয়ে বিভ্রান্তি লেগে আছে, তখন ঘরে তৈরি অ্যালোভেরা জেল হতে পারে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রাকৃতিক সমাধান। সামান্য কিছু উপাদান ও সময় ব্যয় করলেই আপনি পেয়ে যেতে পারেন একেবারে খাঁটি ও নিরাপদ অ্যালোভেরা জেল, যা শুধু ত্বক নয়, চুল ও শরীরের নানা দিক থেকে উপকারী।

তাই দেরি না করে, আজই বাড়ির ছাদ বা ব্যালকনির টবে লাগান অ্যালোভেরা গাছ। আর নিয়মিত ব্যবহার করুন নিজের হাতে তৈরি এই প্রাকৃতিক আশ্চর্য জেল। কারণ প্রকৃতির কাছে ফিরলেই মিলবে আসল সুস্থতা ও সৌন্দর্য।