প্রাচীনকাল থেকেই সৌন্দর্যচর্চায় চালের জল ব্যবহার করা হয়ে আসছে। বিশেষ করে জাপান, চীন ও কোরিয়ার মহিলারা তাদের ত্বক ও চুলের যত্নে চালের জল ব্যবহার করেন। এতে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যামিনো অ্যাসিড, যা ত্বক ও চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ত্বকের জন্য চালের জলের উপকারিতা

* উজ্জ্বল ত্বক: চালের জল  প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

* ব্রণ ও দাগ হ্রাস: এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং ব্রণর দাগ হালকা করে।

* ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স রক্ষা করে: এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে।

* বার্ধক্য প্রতিরোধ: চালের জলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা বলিরেখা ও ফাইন লাইন কমিয়ে ত্বককে তরুণ রাখে।

* সানবার্ন উপশম করে: রোদে পোড়া ত্বকে চালের জল ব্যবহার করলে জ্বালা কমে এবং ত্বক দ্রুত সুস্থ হয়।

চুলের জন্য চালের জলের  উপকারিতা

* চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়: চালের জলের  থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

* চুল মজবুত ও চকচকে করে: এটি চুলের কিউটিকল মজবুত করে, ফলে চুল নরম ও উজ্জ্বল দেখায়।

* চুল পড়া কমায়: চালের জলের  উপস্থিত ইনোসিটল নামক উপাদান চুলের গঠন মজবুত করে এবং চুল পড়া প্রতিরোধ করে।

* খুশকি দূর করে: এটি স্ক্যাল্প পরিষ্কার করে এবং ফাঙ্গাস প্রতিরোধে সাহায্য করে, ফলে খুশকি কমে।

* চুলের পিএইচ ব্যালান্স রক্ষা করে: নিয়মিত চালের জলের ব্যবহার করলে চুলের শুষ্কতা ও রুক্ষতা দূর হয়।

চালের জল তৈরির পদ্ধতি

* সিদ্ধ চালের জল : চাল সিদ্ধ করার পর যে জল  থাকে, সেটি ঠান্ডা করে মুখ ও চুলে ব্যবহার করা যায়।

*ভেজানো চালের জল : এক কাপ চাল ৩০ মিনিট জলতে ভিজিয়ে রেখে সেই জল  ব্যবহার করা যায়।

* গাঁজানো চালের জল : চাল ভিজিয়ে রেখে ২৪ ঘণ্টা গাঁজিয়ে নিন, এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এটি আরও কার্যকর হয়।

ব্যবহার করার উপায়ঃ

ত্বকের জন্য: তুলার সাহায্যে চালের জল মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

চুলের জন্য: শ্যাম্পু করার পর চালের জল  চুলে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

প্রাকৃতিক এই উপায়টি নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও চুল হবে স্বাস্থ্যকর ও ঝলমলে!