পিতৃপক্ষ মানে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা পাক্ষিক, যা শ্রাদ্ধ নামেও পরিচিত। হিন্দু চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৫ দিনের সময়কাল থাকে, এই সময়ে মৃত পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধায় তর্পণ ও পিন্ড দান করা হয়। প্রতি বছর এই সময়কাল পড়ে ভাদ্র মাসে, যা পূর্ণিমা তিথিতে শুরু হয় এবং শেষ হয় অমাবস্যায়। গণপতি বাপ্পার বিদায়ের পরের দিন অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে পিতৃপক্ষ এবং শেষ হবে ২ অক্টোবর। গরুড় পুরাণে শ্রাদ্ধ বা পিতৃপক্ষের বিশেষ গুরুত্ব বর্ণিত রয়েছে। মান্যতা রয়েছে পিতৃপক্ষের সময়, পূর্বপুরুষদের আত্মা পৃথিবীতে অবতরণ করে এবং তাদের বংশধরদের কাছ থেকে প্রসাদ গ্রহণ করে।

শ্রাদ্ধের নিয়ম অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের সময়কালে মৃত পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। মৃত পূর্বপুরুষদের সন্তুষ্ট করার জন্য এবং তাদের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য করা হয় শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান, যার ফলে তাদের পরকালের শান্তি নিশ্চিত করা হয়। এছাড়াও বিশ্বাস করা হয় যে পিতৃপক্ষে শ্রাদ্ধ করলে পরিবারে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে, পিতৃ দোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ২০২৪ সালে পিতৃপক্ষ শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর এবং ২ অক্টোবর মহালয়া অমাবস্যা হল শ্রাদ্ধের শেষ দিন। মহালয়া অমাবস্যার দিনটিকে পিতৃপক্ষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

শ্রাদ্ধের নিয়ম অঞ্চল অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, তবে সাধারণত এই পদ্ধতিগুলি পূর্বপুরুষদের সন্তুষ্ট করার জন্য সম্পূর্ণ ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে করা হয়। তর্পণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কালো তিল, বার্লি এবং ফুলের সঙ্গে মিশ্রিত জল পূর্বপুরুষদের নিবেদন করা হয়। পিন্ড দান নিয়মের মাধ্যমে রান্না করা চাল, বার্লি ময়দা এবং কালো তিলের বৃত্তাকার বলের আকারে পূর্বপুরুষদের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। এছাড়া পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এই সময়কালে ব্রাহ্মণ এবং দরিদ্রদের খাওয়ানো শুভ। হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, এই সময়ে কাক, কুকুর বা গরুর আকারে আশে পাশেই উপস্থিত থাকে পূর্বপুরুষরা। তাই এই তিথিতে কাক, কুকুর ও গরুকে পরিষ্কার, বিশুদ্ধ ও নিরামিষ খাবার খাওয়ানো উচিত।