পুরাণের হারিয়ে যাওয়া নদীই কি বিদ্যার দেবী সরস্বতী?
ছবিতে দেবী সরস্বতী(Photo Credit: Pixabay)

দেবীমাহাত্ম্য থেকে হারানো নদীর রহস্য- সব মিলিয়ে সরস্বতী আজও রহস্যাবৃতাই৷ একই সঙ্গে গবেষকদের কাছে কৌতূহলেরও৷ বৈদিক সরস্বতী নদী ছাড়া এক সরস্বতী নদী আছে এ বাংলাতেও৷ সেই হারিয়ে যাওয়া নদীই আসলে দেবী সরস্বতী।

এখানে সরস্বতীকে(Goddess Saraswati) অন্নদাত্রী, শিক্ষয়িত্রী, জ্ঞানদাত্রী ও জলদাত্রী হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে৷ অধুনা অবলুপ্ত বৈদিক নদী সরস্বতীর ধারণা আমরা এখান থেকেই পেয়ে যাই৷ বৈদিক সভ্যতার ভিত্তি ছিল এই নদীর জলরাশিই৷ কিন্তু কালক্রমে তা হারিয়ে যায়৷ বস্তুত সিন্ধু সভ্যতাও সরস্বতীর জলেই পুষ্ট হয়েছিল৷ আজ যে যমুনাকে আমরা দেখি, তা এককালে সরস্বতীরই উপনদী ছিল( Aryan boundary river)৷ আমরা স্মরণ করতে পারি, কৃষ্ণের দাদা বলরাম একবার যমুনাকে আকর্ষণ করেছিলেন৷ পৌরাণিক এ কাহিনীর ভিতর থেকে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট৷ বড়সড় কোনও পরিবর্তনের জেরেই রাজস্থানের কোনও গ্রামের কাছে হারিয়ে যায় সরস্বতীর পথ৷ তবে অন্তঃসলিলা হয়ে সরস্বতী আজও বয়ে চলে বলে অনেকের ধারণা৷ সরস্বতী নদী যে ছিল এ নিয়ে আজ আর কোনও সংশয় নেই৷ দীর্ঘ গবেষণায় তা প্রমাণিত হয়েছে৷

বৈদিক সভ্যতা যত সরস্বতীর জলরাশির আশীর্বাদ পেয়েছে, ততই দেবীর মাহাত্ম্য পেয়েছেন সরস্বতী৷ তাঁকে সভ্যতার ধাত্রী, জ্ঞানদায়িনী হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে৷ কখনও বলা হয়েছে তিনি ব্রহ্মার মানসপুত্র৷ ব্রহ্মা স্বয়ং এই জগৎ সৃষ্টি করেছে সরস্বতীকে সঙ্গে নিয়ে৷ বিপুলা জলরাশির নদী ছাড়া যে সভ্যতা গড়ে উঠতে পারে না তা সহজেই অনুমেয়৷ আবার কখনও সরস্বতীকে ব্রহ্মার স্ত্রী হিসেবেও কল্পনা করা হয়েছে৷ জানা যায়, সরস্বতী বিষ্ণুরই স্ত্রী ছিলেন৷ কিন্তু লক্ষ্মী-সরস্বতী ও বিষ্ণুর অন্য স্ত্রীর মধ্যে কলহ লেগে থাকত৷ আর তাই বিষ্ণু সরস্বতীকে ব্রহ্মার হাতে তুলে দেন৷ কলহ তো নেহাতই ছুতো৷ আসলে লক্ষ্মী ও সরস্বতী- অর্থ ও প্রজ্ঞা- দুয়ে মিলেই যে সভ্যতার উণ্মেষ, এ কাহিনী যেন তারই ইঙ্গিত দেয়৷