ভারতের অনেক রাজ্যে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে নারালী পূর্ণিমার। পূর্ণিমার দিন রক্ষা বন্ধন এবং কাজরী পূর্ণিমার মতো পালন করা হয় নারালী পূর্ণিমা। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের মানুষেরা পালন করে এই উৎসবটি। নারালী শব্দের অর্থ হল নারকেল, অর্থাৎ নারালী পূর্ণিমার দিনে নারকেল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৪ সালে নারালী পূর্ণিমা পালন করা হবে ১৯ আগস্ট, সোমবার। এই দিনটি উৎসর্গ করা হয় সমুদ্র দেবতা বরুণকে।

গোটা মহারাষ্ট্রে এই উৎসব খুবই জনপ্রিয়। হিন্দি ক্যালেন্ডারের শ্রাবণ মাসকে খুবই শুভ মাস বলে মনে করা হয়। এই কারণে নারালী পূর্ণিমার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নারালী পূর্ণিমার দিনে সমুদ্র দেবতা বরুণের পুজো করে তাঁকে নিবেদন করা হয় নারকেল, যাতে প্রসন্ন হয়ে সমুদ্রের বিপদ থেকে রক্ষা করেন বরুণ দেব। মূলত উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি বসবাসকারী জেলেরা পালন করে এই উৎসবটি। নারালী পূর্ণিমার দিনে ভগবান শিবের পুজোও করা হয়। মান্যতা রয়েছে যে নারকেলের তিনটি ছিদ্র ত্রিনেত্রধারীর প্রতীক। এছাড়া শ্রাবণ মাস ভগবান শিবের খুব প্রিয়, তাই এই দিনে নারকেল এবং শণ ধতুরার মতো জিনিস নিবেদন করা হয় ভগবান শিবকে।

জেলেদের জন্য নারালী পূর্ণিমা হল তাদের ঈশ্বর এবং কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উৎসব। আর্থিকভাবে সচ্ছল জেলেরা নতুন নৌকা বা মাছ ধরার জাল কেনেন এই দিনে। নারালী পূর্ণিমার দিনে খুব সুন্দর করে সাজানো হয় নৌকাগুলো। নারালী পূর্ণিমার দিন সমুদ্র দেবতার আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য মানুষ সমুদ্রের তীরে গিয়ে সমুদ্রে নারকেল ভাসিয়ে দেয়। নারকেলই একমাত্র গাছ যা মানুষকে ফল, উপকারী পাতা এবং ছাল প্রদান করে। নারকেলের তিনটি চোখকে ভগবান শিবের প্রতীক বলে মনে করা হয়। তাই কোনও শুভ কাজ করার আগে নারকেল ভেঙে খাওয়া শুভ বলে মনে করা হয়। পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য ব্রাহ্মণ বংশের মানুষেরা দান করার প্রথা রয়েছে এই দিনে।