মাঘ শুক্লপক্ষের একাদশীকে বলা হয় জয়া একাদশী বা ভীষ্ম একাদশী। সনাতন ধর্মে এই একাদশীর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মান্যতা আছে জয়া একাদশীর উপবাস করলে শ্রী হরি ও মা লক্ষ্মীর বিশেষ আশীর্বাদ পাওয়া যায় এবং বাড়িতে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। পাশাপাশি জীবনের সমস্ত আনন্দ ভোগ করার পর মোক্ষ লাভ হয়। অর্থাৎ ভূত, প্রেত বা পিশাচের জীবন পাওয়ার চিন্তা থাকে না। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক ২০২৪ সালের জয়া একাদশীর উপবাসের দিন ও শুভ সময় এবং পুজোর পদ্ধতি...
২০২৪ সালে মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী ১৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার, সকাল ০৮:৪৮ মিনিটে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, সকাল ০৯:৫৫ মিনিটে। উদয় তিথি অনুসারে, ২০ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার দিনে পালন করা হবে জয়া একাদশীর উপবাস।
মাঘ শুক্লপক্ষের একাদশীর দিন সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে ধ্যান করতে হবে। পরিষ্কার হলুদ পোশাক পরিধান করে করতে হবে সূর্য দেবতার প্রার্থনা। এরপর ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান করে জয়া একাদশীর উপবাস ও পুজো করার প্রতিজ্ঞা নিতে হবে। বাড়ির মন্দিরের সামনে একটি উঁচু জায়গা রেখে, তার উপর লাল কাপড় বিছিয়ে ভগবান বিষ্ণু ও মা লক্ষ্মীর ছবি রাখতে হবে। এরপর ধূপ প্রদীপ জ্বালিয়ে মন্ত্র জপ করে পুজো করতে হবে। ভগবান বিষ্ণুকে হলুদ ফুল, ও হলুদ চন্দন অর্পণ করার পাশাপাশি ভগবানকে দুধ ও ফল দিয়ে তৈরি মিষ্টি নিবেদন করতে হবে। এরপর বিষ্ণু সহস্ত্রনাম জপ করে ভগবান বিষ্ণুর আরতি করে বিতরণ করতে হবে প্রসাদ। পরের দিন, সূর্যোদয়ের আগে স্নান এবং ধ্যান করে ভঙ্গ করতে হবে উপবাস।
পদ্মপুরাণ অনুসারে, একবার স্বর্গের নন্দন বনে চলছিল এক উৎসব। যেখানে সকল দেবতা, সিদ্ধগন ও ঋষিদের মনোরঞ্জন করার জন্য গন্ধর্ব পুরুষ ও গন্ধর্ব কন্যারা নৃত্য করছিলেন। তখন এক নর্তকী পুষ্যবতীর চোখ পড়ে গন্ধর্ব মাল্যবনের ওপর। মাল্যবান ও পুষ্যবতী একে অপরের প্রতি মুগ্ধ হয়ে ভুল সুরে গাইতে শুরু করেন। এই কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে ইন্দ্র দুজনকেই পিশাচ হওয়ার অভিশাপ দেন। অভিশপ্ত দুজনেই পিশাচ লোকে গিয়ে কষ্ট পেতে থাকে। একদা একদিন মাল্যবান ও পুষ্যবতীকে জয়া একাদশীর দিন কাটাতে হয়ে শুধু ফল খেয়ে। প্রচন্ড ক্ষুধার্ত অবস্থায় উভয়ে সারারাত শ্রী হরির ভজন করতে থাকে। তাঁদের ভজন শুনে প্রসন্ন হয়ে শ্রী হরি তাঁদের পিশাচ রূপ থেকে মুক্ত করেন। ওই সময় থেকে জয়া একাদশীর উপবাস করা শুরু হয় এবং মান্যতা রয়েছে এই উপবাসের কারণে মোক্ষ লাভ হয়।