হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতি বছর আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীতে পালন করা হয় ইন্দিরা একাদশী। হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থে ইন্দিরা একাদশীর বিশেষ গুরুত্বের উল্লেখ রয়েছে। ভগবান বিষ্ণুর সঙ্গে পূর্বপুরুষদের জন্যও শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান করা হয় ইন্দিরা একাদশীতে। এদিন ভগবান বিষ্ণুর পুজো করলে পূর্বপুরুষদের মোক্ষ লাভ এবং অনন্ত মোক্ষ লাভ হয়। তাই এই দিনে পূর্ণ ভক্তি সহকারে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করা উচিত। ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় ইন্দিরা একাদশীর উপবাস।
ইন্দিরা একাদশী শুরু হবে ২৭ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, দুপুর ০১:২০ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৮ সেপ্টেম্বর, শনিবার, দুপুর ০২:৪৯ মিনিটে। উদয় তিথি অনুসারে, ইন্দিরা একাদশী উপবাস পালন করা হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। ইন্দিরা একাদশীতে উপবাস করে শ্রী হরির পুজো করলে অনেক পুণ্য লাভ হয়, ভগবান বিষ্ণু সুস্বাস্থ্য, সম্পদ, সুখ, শান্তি এবং মোক্ষ দান করেন। এছাড়া কুণ্ডলীতে পিতৃ-দোষ বা অন্য কোনও ত্রুটি থাকলে ইন্দিরা একাদশীর দিন নবগ্রহ স্তোত্র ২১ বার পাঠ করা উচিত, এতে গ্রহের অবস্থান অনুকূল হয় এবং পিতৃপুরুষের অশান্ত আত্মা মুক্তি পায়। এছাড়া শরীর ও মন সুস্থ থাকে। এই দিনে গরীব বা অভাবীকে খাদ্য ও বস্ত্র দান করলে অক্ষয় পুণ্য পাওয়া যায়।
পদ্মপুরাণ অনুসারে, ইন্দিরা একাদশীর উপবাসের আগে দশমীতে পূর্বপুরুষের শ্রাদ্ধ করা হয়। শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের পরে পঞ্চাবলীর নীচে ব্রাহ্মণ ভোজন এবং গরু, কাক, কুকুর ও পিঁপড়াদের অন্ন প্রদান করা উচিত। এই দিনে সূর্যাস্তের পর খাবার খাওয়া যায় না। একাদশীতে, সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে পবিত্র স্নান করে শ্রী হরি ও দেবী লক্ষ্মীর ধ্যান করে ইন্দিরা একাদশীর উপবাস ও পুজোর সংকল্প নেওয়া হয়। পুজোর সময় অনুসারে পুজোর স্থানে একটি হলুদ কাপড় বিছিয়ে শ্রী হরি ও দেবী লক্ষ্মীর মূর্তি রেখে শুরু হয় পুজো। পুজোয় নিবেদন করা হয় হলুদ, চন্দন, ফুল, তুলসী পাতা, রোলি, সুপারি। ভগবান বিষ্ণুকে সুপারি এবং দেবী লক্ষ্মীকে ফুল ও বিয়ের সামগ্রী নিবেদন করা হয়। বিষ্ণু সহস্ত্রাম পাঠ করার পর আরতি করে সকলকে প্রসাদ বিতরণ করা হয় এদিন।