হলষষ্ঠী বা উব ছট উৎসবের দিনে জন্ম হয়েছিল ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বলরামের এবং তাঁর অস্ত্র ছিল লাঙ্গল। তাই এই দিনটিকে বলা হয় হলষষ্ঠী। অনেক জায়গায় চন্দন ষষ্ঠী হিসেবেও পালন করা হয় এই দিনটি। ২০২৪ সালে ষষ্ঠী তিথি পড়েছে ২৪ আগস্ট। ভগবান কৃষ্ণের বড় ভাই বলরামের জন্মদিন পালিত হবে এই দিনেই। পরিবারের সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের জন্য সূর্যাস্তের পর চন্দন জল পান করে উপবাসের ব্রত গ্রহণ করেন বিবাহিত মহিলারা। চন্দ্রোদয় পর্যন্ত পুজো এবং পৌরাণিক কাহিনী শোনা হয় এদিন। ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে হয় উব ছট। বিবাহিত মহিলারা তাদের স্বামীর দীর্ঘায়ু এবং অবিবাহিত মেয়েরা ভালো স্বামী পাওয়ার জন্য করে উব ছট পুজো। কুমকুম ও চন্দন দিয়ে তিলক লাগিয়ে ভগবানকে অক্ষত, মুদ্রা, ফুল, ফল, সুপারি নিবেদন করা হয়। প্রদীপ এবং ধূপকাঠি জ্বালিয়ে শোনা হয় উব ছট ব্রতের গল্প। আকাশে চাঁদ দেখা দিলে, চাঁদকে অর্ঘ নিবেদন করার পর ভঙ্গ করা হয় উপবাস।

ছট ব্রত কথা অনুযায়ী, এক গ্রামে এক মহাজন ও তার স্ত্রী থাকতেন। মাসিক হওয়া সত্ত্বেও সব ধরনের কাজ করতেন মহাজনের স্ত্রী। রান্নার কাজ, জল ভর্তি করার মতো কাজ, এমনকি বাড়ির সব কিছুতেই হাত দিতেন তিনি। তাদের একটি ছেলে ছিল, ছেলের বিয়ে হওয়ার পর মহাজন ও তার স্ত্রী মারা যায়। পরের জন্মে মহাজন ষাঁড় এবং তার স্ত্রী কুকুরের রূপ পায়। ষাঁড় ক্ষেতে কাজ করত এবং কুকুর ঘর পাহারা দিত। শ্রাদ্ধের দিন তাদের ছেলে অনেক খাবার তৈরি করে, ক্ষিরও তৈরি হচ্ছিল। হঠাৎ একটা ঈগল একটা মরা সাপ মুখে নিয়ে উড়ে আসে। সেই সাপটি ঈগলের মুখ থেকে ক্ষিরে পড়ে যায়। কুকুর সেটা দেখতে পেয়ে সেই ক্ষিরে মুখ আটকে রাখে। ছেলের স্ত্রী কুকুরটিকে ওই অবস্থায় দেখে রেগে গিয়ে তার পিঠে মোটা লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আঘাতের কারণে কুকুরের পিঠের হাড় ভেঙে যায়।

খুব কষ্টে কুকুরটি সেই রাতে ষাঁড়কে বলে, তোমার জন্য শ্রাদ্ধ করা হয়েছে, নিশ্চয়ই পেট ভরে খেয়েছ। ষাঁড় বলল, খাবার পাই নি, সারাদিন মাঠে কাজ করেছি।কুকুর বলে, আমি খাবারের পরিবর্তে মার পেয়েছি। পুত্রবধূ এসব শুনে স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে এক পণ্ডিতকে সব ঘটনা বলেন। পণ্ডিত বলেন যে কুকুরটি তার মা এবং ষাঁড়টি তার পিতা। সব শুনে মহাজনের পুত্র বাবা-মার মুক্তির উপায় চাইলেন। পণ্ডিত বলেছিলেন যে তাঁর কুমারী কন্যা যদি ভাদ্র কৃষ্ণপক্ষের ষষ্ঠীতে অর্থাৎ উব ছট উপবাস করে সন্ধ্যায় স্নান করে পুজো করে এবং চাঁদ উঠলে চাঁদকে অর্ঘ্য নিবেদনের সময় যে জল পড়ে তা ষাঁড় ও কুকুরকে স্পর্শ করে তাহলে তারা মুক্তি পাবে। পণ্ডিতের কথা অনুযায়ী মেয়েটি উব ছট উপবাস পালন করে পুজো করে। চাঁদ উঠলে চাঁদকে অর্ঘ্য দেওয়ার সময় এমনভাবে ব্যবস্থা করা হয় যাতে জল ষাঁড় ও কুকুরের ওপর পড়ে। তাদের উপর জল পড়ায় উভয়ের মোক্ষ লাভ হয়।