Annapurna Puja 2025: চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে পূজিত হবেন দেবী অন্নপূর্ণা, অন্নপূর্ণা পুজো করলে পরিবারে কী লাভ হয়?
কথিত আছে কৈলাসে শিব-পার্বতীর বিয়ের পর চরম অর্থাভাবের কারণে শিবকে ভিক্ষা করতে বার হতে হয়। কিন্তু কোথাও ভিক্ষা না পেয়ে ফিরে আসেন দেবাদিদেব। তখন পার্বতীই অন্নপূর্ণা রূপে শিবকে অন্ন দেন।
চৈত্রের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে দেবী অন্নপূর্ণার (Annapurna Puja 2025) আরাধনা হবে বাঙালির ঘরে ঘরে। এই অষ্টমী তিথিকে অনেকে বাসন্তী দুর্গা অষ্টমী( Basanti Durga Asthami) ও বলে থাকে। চৈত্র নবরাত্রির (Chaitra Navratri) মাঝে এই অষ্টমী তিথিতে দেবীর আরেক রূপ এই অন্নপূর্ণার পুজো করা হয়।নিষ্ঠার সঙ্গে বহু বছর ধরেই শহর কলকাতার অনেক পরিবারে অন্নপূর্ণা পুজো চলে আসছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।পুজোর সঙ্গে থাকে বহু মানুষের সমাগম।চলে খাওয়া দাওয়াও। যেসব পরিবারে অন্নপূর্ণা পুজোর আয়োজন হয় সেখানে দুর্গাপুজোর মতনই থাকে উৎসবের মেজাজ। আমন্ত্রিতরাও মেতে ওঠেন আনন্দে।
দেবী অন্নপূর্নার রূপঃ-
দেবী অন্নপূর্ণা দ্বিভূজা, দেবীর একহাতে কলস, অন্য হাতে তিনি অন্নদান করছেন ভগবান শিবকে। এটাই দেবী অন্নপূর্ণার রূপ। ভিক্ষারত মহাদেব (Mahadev) কে অন্ন দান করার রূপ থেকেই তিনি অন্নপূর্ণা।চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে অন্নপূর্ণা পুজো হয়। লৌকিক বিশ্বাস যেসব পরিবারে অন্নপূর্ণা পুজো হয় সেসব পরিবারে কখনও অন্নের অভাব হয়না।আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে, চিরাচরিত এই আর্তি নিয়ে ঘরে ঘরে অন্নপূর্ণার পুজো হয়। মনে করা হয়, গৃহে অন্নপূর্ণার পুজো করলে কখনওই অন্নের অভাব হয় না। অন্নপূর্ণা পুজোয় দরিদ্র নারায়ণ সেবা করলে ঘরে সমৃদ্ধি আসে
দেবী অন্নপূর্ণার পৌরাণিক কাহিনীঃ-
দেবী অন্নপূর্ণার কথা বিভিন্ন পুরাণে পাওয়া যায়। পুরাণ বর্ণিত কাহিনিতে অবশ্য অন্নপূর্ণাকে নিয়ে বিভিন্ন কাহিনি পাওয়া যায়। কথিত আছে কৈলাসে শিব-পার্বতীর বিয়ের পর চরম অর্থাভাবের কারণে শিবকে ভিক্ষা করতে বার হতে হয়। কিন্তু কোথাও ভিক্ষা না পেয়ে ফিরে আসেন দেবাদিদেব। তখন পার্বতীই অন্নপূর্ণা রূপে শিবকে অন্ন দেন। এরপর শিব পরম সন্তুষ্ট হয়ে কাশী তৈরি করেন। সেখানে একটি অন্নপূর্ণার মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেন।
দেশজুড়ে অন্নপূর্নার পুজোঃ
কাশীর অন্যতম মন্দির দেবী অন্নপূর্ণা মন্দির (Devi Annapurna Temple In Kashi)। সেখানে অন্নপূর্ণা পুজোর দিন বিশাল উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বহু পুণ্যার্থী হাজির হন অন্নপূর্ণা পুজো দেখতে। ভোগ পেতে। কাশীর দেবী অন্নপূর্ণার বিগ্রহ সম্পূর্ণ স্বর্ণ নির্মিত। পুরো মূর্তিটি বছরে কেবল ২ দিনই দর্শন করা যায়। একটি হল অন্নপূর্ণা পুজোর দিন। অন্যটি অন্নকূটের দিন। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এদিন অন্নপূর্ণা পুজোয় মাতোয়ারা। টিটাগড়ে একটি অন্নপূর্ণার মন্দির রয়েছে। তবে অন্নপূর্ণার মন্দিরের সংখ্যা কমই।
কাব্যে দেবী অন্নপূর্ণাঃ
দেবী অন্নপূর্ণা কিন্তু বাংলা সাহিত্যেও বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হয়েছেন। অন্নদামঙ্গল কাব্য রচিত হয়েছে। রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রর সেই সৃষ্টি চিরদিন বাংলা সাহিত্যের অমূল্য রত্ন হয়ে থেকে যাবে।
(The above story first appeared on LatestLY on Apr 04, 2025 02:16 PM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

