Eid Milad Un Nabi (File Image)

Eid-e-Milad 2025: ঈদ-ই-মিলাদ উন নবী (Eid-e-Milad Un Nabi) দিবস নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে উদযাপিত একটি ধর্মীয় উৎসব। নবী মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। ইসলামি চন্দ্রপঞ্জিকায় রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ দিনটি পালিত হয়। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চলতি বছর উৎসবটি ৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে ৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পালিত হবে ।

নবী দিবস উৎসবে ধর্মীয় কবিতা আবৃত্তি, জলসা, রোজা, গাজল ও জিকির অনুষ্ঠিত হয়।উৎসবটি বিভিন্ন দেশে উদযাপনের ধরন ভিন্ন। ইয়েমেনে লক্ষ লক্ষ মানুষ সবুজ সাজসজ্জায় অনুষ্ঠান করেন, পাকিস্তানে কামানের সালাম ও ধর্মীয় গান দিয়ে শুরু হয়, ইন্দোনেশিয়ায় সেকাতেন মেলা ইত্যাদি অনুষ্ঠান হয়, তুরস্কে ঐতিহ্যবাহী কবিতা আবৃত্তি করা হয়।ভারতে নবীর স্মৃতিতে এদিন রাতভর জলসার আয়োজন করা হয়।

নবী দিবস পালনের তাৎপর্য

ঈদ-ই-মিলাদ উন নবী দিবসের মূল তাৎপর্য হলো নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মকে স্মরণ করা এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা। এটিকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায় হিসেবে দেখা হয়, কারণ নবীর জন্মের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। এতে কুরআন তিলাওয়াত, দান-খয়রাত ইত্যাদি অনুষ্ঠানগুলোকে কৃতজ্ঞতার রূপ হিসেবে ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করা হয়।

আরও পড়ুন: Eid Milad Un Nabi 2025 Wishes In Bengali: সম্প্রীতি ও ভালোবাসায় ভরে উঠুক আমাদের জীবন, মিলাদ উন নবী দিবসের শুভেচ্ছা

নবী দিবসের ইতিহাস

ঈদ-ই-মিলাদ উন নবী দিবসের উৎপত্তি ইসলামের প্রাথমিক যুগে। প্রথম দিকে তাবেয়ীনরা বিভিন্ন শহরে কবিতা, গান ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে নবীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করতেন। আব্বাসীয় ও ফাতেমীয় খিলাফতের সময় এই উদযাপন আরও আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। ঐতিহাসিকভাবে, ফাতেমীয়রা (১০ম-১২শ শতাব্দী) এটিকে সরকারি উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল বলে মনে করা হয়।

মিলাদ উন নবী দিবসে উদযাপন নিয়ে মুসলিম পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। অধিকাংশ সুন্নি ও প্রায় সব শিয়া পণ্ডিত এটিকে অনুমোদন করেন, সুন্নি মাজহাব (হানাফি, মালেকি, শাফেয়ী, হাম্বলি) এর সমর্থন রয়েছে। তবে কিছু গোষ্ঠী এটিকে ধর্মবিরোধী বলে মনে করে এবং পালন করে না। তারা মনে করে এটি কোরআন বা হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত নয়, তাই এটি পালন করা উচিত নয়।